

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত সমবায় সমিতি আইন ও বিধিমালা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যে ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) জেলা সমবায় কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ ইউনিটের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মশালায় অংশ নেন ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল হোসেন (হোসাইন বিন ওবাইয়েদ)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
প্রশিক্ষণ শেষে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে ইউএনও’র উপস্থিতিতে তোলা একটি ছবি পোস্ট করেন এবং লেখেন— “উপজেলা সমবায় প্রশিক্ষণ সেমিনারে মাননীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোজাম্মেল হক চৌধুরী মহোদয়।”
ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিএনপি, জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপজেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফটিকছড়ি সমন্বয়ক কামরুল হাসান তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এখন উপজেলা সমবায় প্রশিক্ষণে! ওদের নাকি পুলিশ খুঁজে পায় না, অথচ প্রশাসনের সামনেই দিব্যি বসে আছে।”
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব বেলাল উদ্দিন মুন্না বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকে সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
ছাত্রশিবির নেতা সাইরান কাদের চৌধুরী বলেন, “সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রশিক্ষণে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতার উপস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে সমবায় অফিসের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. শহীদ ভূঁইয়া বলেন, “আমরা সমবায় সমিতিগুলোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কে কোন দলের, সেটা আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউএনওর উপস্থিতিতে এমন বিতর্কিত ব্যক্তির অংশগ্রহণ শুধু প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নয়, সরকারি কর্মকাণ্ডের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও প্রশ্ন তুলেছে।
মন্তব্য করুন