

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন মারা গেছেন।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী এলাকায় তার নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য শেষ করে এলাসিনে অপর একটি প্রচারণায় যোগদান করার জন্য যাবার পথে গাড়িতে হার্ট অ্যাটাক করলে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেডিসিন বিভাগে দায়িত্বে থাকা ডা.মাহমুদুল আলম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার সময় হামিদুল হক মোহনকে নিয়ে আসলে ইসিজি করার পর আমরা দেখি নিয়ে আসার পথে সে মারা গেছে।
দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফেরদৌস বলেন, বীরমুক্তিযোদ্বা হামিদুল হক মোহন এবার দেলদুয়ার নাগরপুর আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। যার কারণে বিভিন্ন জায়গায় জনসংযোগ করার জন্য সভা সমাবেশ করছেন কয়েকদিন যাবত। তার ধারাবাহিকতায় আজকে দেলদুয়ার উপজেলার দেওলী এলাকায় নির্বাচনী জনসভা শেষ করে এলাসিন এলাকায় অপর একটি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার জন্য যাবার পথে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেন।
হামিদুল হক মোহন ৮ আগস্ট ১৯৫২ সালে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার মঙ্গলহোড় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আইনউদ্দিন আহমেদ ছিলেন পাথরাইল ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের চেয়ারম্যান ও সমাজসেবক।
শিক্ষাজীবন শুরু টাঙ্গাইল শহরে, পরে বিন্দুবাসিনী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও জামুর্কী নবাব স্যার আব্দুল গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে। এসএসসি (১৯৬৫), এইচএসসি (১৯৬৬) ও স্নাতক (১৯৬৮) সম্পন্ন করেন সা'দত কলেজ থেকে।
মাওলানা ভাসানীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল হাই কমান্ডের সদস্য হিসেবে সাহসিকতার পরিচয় দেন। স্বাধীনতার পর নির্বাচিত হন বিআরডিবি টাঙ্গাইল ও দেলদুয়ারের চেয়ারম্যান।
শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলে “দূতপুল”-এর সদস্য হিসেবে উপমন্ত্রীর মর্যাদা লাভ করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে টানা ১৭ বছর দায়িত্ব পালন করেন।
নিজ গ্রাম মঙ্গলহোড়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ৭ বার দায়িত্ব পালন করেছেন পাথরাইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে, বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠেছে ফাজিলহাটি তমিজ উদ্দিন গার্লস হাই স্কুল,বরুহা হাই স্কুল,আটিয়া শাহানশাহী গার্লস হাই স্কুল তাছাড়া তিনি ছিলেন টাঙ্গাইল নাট্যমহলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সাংস্কৃতিক সংগঠন “সরগম”-এর অন্যতম চালিকাশক্তি।
টাঙ্গাইল জেলা মোহামেডাম স্পোটিং ক্লাবের সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রথম নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এবং দীর্ঘদিন টাঙ্গাইল জেলা ফুটবল লীগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৭১ সালে তিনি বিয়ে করেন ভাষাসৈনিক সৈয়দ আব্দুল মতিনের কনিষ্ঠ ভগ্নি নুরুন্নাহার পুটিকে। তিনি ৫ সন্তানকে রেখে যান তারা হলেন, নিপা হক, মিল্টন হক, হাছিনা আফরোজ দিনা, হামিদা আফরোজ, নাজমুল হক বাবু।
মন্তব্য করুন