

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জসিম উদ্দীনসহ থানার চারজন এসআই, তিনজন এএসআই এবং একজন সোর্সের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক নারী।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-০১-এ মামলার আবেদন করেন পাহাড়তলী থানার সিগন্যাল কলোনীর বাসিন্দা কোহিনুর বেগম। মামলা নং: ৮৪/২০২৫ (পাহাড়তলী)। মামলার শুনানি আগামী ৪ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
ওসি: জসিম উদ্দীন, এসআই: জাহেদ হোসেন (অপারেশন অফিসার), মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, মজিবুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল রিয়াদ, এএসআই: আবু সাহেদ, আমিনুল হক ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম, সোর্স: শামসুল হক রানা।
বাদী কোহিনুর বেগম অভিযোগে জানান, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার স্বামী মো. জাকির হোসেন ওষুধ কিনতে গেলে পাহাড়তলী থানার সোর্স শামসুল হক রানার নির্দেশে ও এসআই জাহেদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ তাকে আটক করে।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশির সময় বাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র এলোমেলো করে দেয় এবং ঘরের পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
এরপর দুই দফায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো অবৈধ কিছু না পেলেও, পুলিশ তাদের ঘরের DVR মেশিন ও সিসি ক্যামেরার বক্স খুলে নিয়ে যায়।
পরে ওসি জসিম উদ্দীন বাদীকে ফোনে জানান, তার স্বামীকে ছাড়া হলে এক লক্ষ টাকার বেশি ঘুষ দিতে হবে। নাহলে ‘ছাত্রলীগ বা জঙ্গি’ মামলায় চালান দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন এসআই জাহেদ হোসেন।
বাদী জানান, মামলার মূল অভিযুক্ত সোর্স শামসুল হক রানা বেশ কয়েক মাস ধরে তার স্বামীর পরিচালিত রেললাইন সংলগ্ন তিনটি রুম দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন। ঘর না ছাড়লে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সময় পুলিশের সহযোগিতায় রানা তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন এবং অবশেষে পুলিশ দিয়ে মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তার স্বামীকে ফাঁসানো হয়।
এই সকল অভিযোগ সম্পর্কে জানতে এসআই জাহেদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে কলটি বিচ্ছিন্ন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বখতেয়ার উদ্দিন বলেন, “এটি একটি স্পষ্ট চাঁদাবাজি ও হয়রানির ঘটনা। মামলাটি গ্রহণের মাধ্যমে আইনের সঠিক প্রয়োগ হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
একজন সাধারণ নাগরিকের এমন অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন