

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ আধ্যাত্মিক এই বানীকে ধারণ করে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আঁখড়াবাড়িতে শুরু হওয়া তিনদিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো।
রোববার রাতভর গানে গানে শেষ হয় লালন ভক্ত, সাধু-বাউল, গুরুদের মিলনমেলা।
আজ সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে সাঁইজির প্রতি যথাযথ সম্মান ও ভাব আদান-প্রদান শেষে আঁখড়াবাড়ি থেকে নিজেদের গন্তব্যে ফিরে যেতে শুরু করেছেন সাধু-বাউলরা।
অসাম্প্রদায়িকতার প্রতীক আধ্যাতিক সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আঁখড়াবাড়িতে তিন দিনব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাঁচ দিনের গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে সংস্কৃতিকবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ বছরই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হলো দিবসটি।
গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুল মঞ্চের আলোচনা সভায় ভিডিও বার্তায় দেশের সবচেয়ে বড় বাউল উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী।
জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের সভাপতিত্বে গতকাল রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফিরোজ সরকার।
আলোচনা সভা শেষে মুল মঞ্চে লালনের গান (বানী) দেশ-বিদেশের লালন সংগীত শিল্পীদের পরিবেশনা পরিবেশিত হয়। রাত-ভর গানের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে লালন স্মরণোৎসব।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লালন দর্শনে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে, তাই এবারের আয়োজনে ছিল প্রতি বছরের চেয়ে বেশি ভিড়।
দর্শনার্থীরা বলছেন, দিন দিন ছড়িয়ে পড়ছে লালনের অহিংস ও মানবতাবাদী দর্শন। তরুণ প্রজন্মের মাঝেও তার গান ও ভাবধারার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
বিদায় বেলায় অনুভূতি প্রকাশ করে ফকির এনাম সাঁই বলেন,"আসলে এখানে সাধু গুরুদের যে মায়া জড়িয়ে আছে সেই মায়া ত্যাগ করে ফিরে যাওয়াটা খুব কঠিন। তবুও যেতে তো হবেই। তবে এই যাওয়া মানে একবারে প্রস্থান নয়। আবারও দোল পূর্ণিমার উৎসবে আসার আকাঙ্খা নিয়ে বিদায় নেওয়া।"
ফকির রিদয় সাঁই বলেন, "এখানে অষ্টপ্রহর ভক্তরা প্রেম, প্রীতি, ভালোবাসা ও ভাববিনিময় করে নিজ গন্তব্যে চলে যান। বিদায় খুব কঠিন ব্যাপার। বিদায়বেলা খুব কষ্টের।"
উল্লেখ,১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর (১২৯৭ সনের পহেলা কার্তিক) আধ্যাত্মিক সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই দেহত্যাগ করেন। এরপর থেকেই তার স্বরণে ভক্ত-অনুসারীরা দিবসটি পালন করে থাকেন।
মন্তব্য করুন