

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ, ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালাল এবং হাসপাতালের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপর্যস্ত।
দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাইভেট ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা রোগীদের নিজ হাতে টানাটানি করে বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে বাধ্য করছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী দালাল হিসেবে কাজ করছেন। এরা সরকারি বেতন ভোগের পাশাপাশি রোগীদের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে (প্রায় ৪০% কমিশনের মাধ্যমে) পাঠিয়ে অর্থ আয় করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, সপ্তাহে তিনদিন দুপুর ২টার পর চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেখা করার অনুমতি থাকে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো বিক্রয় প্রতিনিধি বা ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকা মানা। কিন্তু কেউ নিয়ম মেনে চলছে না।
স্থানীয় জনগণ ও রোগীরা অভিযোগ করেছেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতাল বর্তমানে দালালদের দখলে।
ঔষধ কোম্পানি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের কারণে রোগীরা অতিষ্ঠ। অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। রোগীদের প্রেসক্রিপশন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক তাদের নিজ প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য করা হয়।
হাসপাতালে আগে ইমারজেন্সি কক্ষে ‘দালাল মুক্ত পুঠিয়া মেডিকেল চাই’ স্লোগান নিয়ে প্রতিবাদ দেখা গিয়েছিল।
শামীম ডাইভারের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক আন্দোলন করছিলেন, কিন্তু দালালদের আক্রমণের শিকার হন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও হাসপাতাল এখনো দালাল মুক্ত হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন হাসপাতাল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাসপাতালের সামনে প্রায় দেড় ডজন প্যাথলজি সেন্টার ও ১০টি অবৈধ ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা হাসপাতালকর্মীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কমিশন পান।
প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ডাক্তারদের কমিশন বণ্টন করা হয়, যা প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ২৩টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ১৩টি ক্লিনিক রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই একাধিক দালাল নিয়োগ দেয়, অধিকাংশই নারী। তাদের প্রতি মাসে ৬–৭ হাজার টাকা বেতন এবং পরীক্ষার বিলের ৪০% কমিশন দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জরুরি বিভাগের একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বলেন, “দালালদের অত্যাচারে রোগীরা বিরক্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয় প্রভাবের কারণে প্রতিবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সূচনা মনোহারা বলেন, “আমি নতুন, তবে দালালদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দালাল মুক্ত করা হবে। সরকারি স্টাফদের যদি দালালির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান জানান, “দালালদের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পুঠিয়ায় নতুন হলেও দালালদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
মন্তব্য করুন