শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে পাহাড়ি এলাকায় রাতভর গোলাগুলি

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৫৬ পিএম আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০২:১৭ পিএম
টেকনাফের রঙ্গিখালীতে দুই বন্দুকধারী গ্রুপের মধ্যে রাতভর গোলাগুলি
expand
টেকনাফের রঙ্গিখালীতে দুই বন্দুকধারী গ্রুপের মধ্যে রাতভর গোলাগুলি

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় দুই বন্দুকধারী গ্রুপের মধ্যে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে টানা প্রায় তিন ঘণ্টা এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী ও উলুচামারি এলাকায় সন্ত্রাসী, ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী এবং অপহরণকারী চক্রগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকে।

সর্বশেষ বুধবার রাতে ‘লাশ জালাল’ গ্রুপ ও ‘আনোয়ার-মিজান’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে রঙ্গিখালী ও উলুচামারি এলাকায় গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।

উলুচামারির এক বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, রাত ১১টার দিকে হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। প্রথমে মনে হয়েছিল সীমান্তে গোলাগুলি চলছে, পরে জানতে পারি আমাদের গ্রামের দুই ডাকাত দলের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

তিনি জানান, অন্তত ৩-৪ শতাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।

আরেক স্থানীয় নারী রহিমা খাতুন বলেন, সারা রাত গোলাগুলির শব্দে ঘুমাতে পারিনি। ছেলে-মেয়েরা ভয়ে কাঁপছে। এভাবে কতোদিন আমরা আতঙ্কে থাকব?

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে মাদক, অপহরণ, ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা থাকলেও তারা এখনও অবাধে এলাকায় বিচরণ করছে।

পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে গিয়ে গা-ঢাকা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় এইসব গ্রুপ দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান বলেন, গোলাগুলির ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নইলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন