শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি জটিলতায় থেমে গেছে শিবচরের চান্দের চর সেতুর কাজ

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চান্দের চর - দ্বিতীয়া খন্ড সেতুর উপর নির্ভর করেছিল দ্বিতীয়া খন্ড, কাদির পুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের হাজারো মানুষের আশা আর স্বপ্ন। আজ সেই সেতুই দুঃখের প্রতীকে পরিনত হয়েছে।

জানাগেছে, ২০২৩ সালে বহুল প্রতীক্ষিত এ সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। পরিকল্পনা ছিল ২০২৫ সালের মে মাসে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলার জটিলতায় থেমে গেছে সব অগ্রগতি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঐ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী চান্দের চর হাট, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,উচ্চ বিদ্যালয়,প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডার গার্টেন থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও ছাত্র - ছাত্রী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। তাদের প্রত্যাশা ছিল সেতুটি নির্মিত হলে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত ও জীবন মানের উন্নয়ন হবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন মাঝ পথে এসে আটকে গেছে।

স্হানীয় অধিবাসী আ. খালেক ঢালী বলেন, সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় দু'বছর যাবত ব্যবহার অনুপযোগী বিকল্প সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রান্তীক চাষীরা ঝুঁকি নিয়েই তাদের কৃষি পণ্য হাটে - বাজারে নিয়ে আসছে, ছাত্র - ছাত্রীরা স্কুল কলেজে যাচ্ছে। আবার মাঝে মাঝেই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ দূরাবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।

স্হানীয় উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.রোকনুজ্জামান বলেন, এ এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, দুটি উচ্চ বিদ্যালয়,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি কিন্ডার গার্টেনের কোমলমতি শিক্ষার্থী, হাট ও বাজার কেন্দ্রিক জনগণ সেতুর পাশে তৈরী প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী বিকল্প সড়ক দিয়ে অতিকষ্টে চলাচল করছে। তাছাড়া ঢাকা যাতায়াতের জন্য এ সড়কে দূরত্ব কম হওয়ায় ভান্ডারীকান্দি ও ছিলারচর ইউনিয়নের লোকজন ও এ সড়কে যাতায়াত করছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় এনে সকল জটিলতা নিরসন করে সেতুটির নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।

জমির মালিক ওয়াহেদ মৃধা বলেন, আমার জমির উপর দিয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও আমাকে কোন প্রকার ক্ষতি পূরণ না দেওয়ায় ক্ষতি পূরণ চেয়ে একটি মামলা করেছি। আর কিছু দিন পূর্বে ভূমি অধিগ্রহণের একটি চিঠি পেয়েছি। আমি চাই আমার ক্ষতি পূরণ বুঝিয়ে দিয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ আবার দ্রুত শুরু হোক।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্র জানায়, ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্হ চান্দের চর হাট সেতু নির্মাণে ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স হা- মীম ইন্টারন্যাশনাল এর ২০২৫ সালের মে মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। তবে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান আছে। অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে দ্রুতই নির্মাণ কাজ আবার শুরু করা হবে।

শিবচর উপজেলা প্রকৌশলী কে এম রেজাউল করিম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় সেতুটির ৫০ শতাংশ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর বাকী কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সমাধান কল্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলে পূনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন