

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভাবি তানিয়াকে গলা কেটে হত্যার ১০ বছর পরে ৬ বছরের শিশু ভাতিজি নাবিল ওরফে তাননুর আক্তারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে চাচা হাবিব ওরফে হাবিল খাঁন।
ঘটনার পরপর ঘাতক হাবিলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনা ঘটেছে তালতলী উপজেলার ইদুপাড়া গ্রামে রাতে মঙ্গলবার।
জানা গেছে, তালতলী উপজেলা ইদুপাড়া গ্রামের দুলাল খাঁনের মেয়ে তাননুর আক্তার মঙ্গলবার দুপুরে স্কুল থেকে এসে বাড়ীর সামনে দোকানে বিস্কুট আনতে যায়। ওই সময় চাচা হাবিল খাঁন (২৭) পিছন দিক থেকে ভাতিজিকে গড়াণ কাঠের লাঠি দিয়ে স্বজোরে আঘাত করে।
এতে শিশুটির মাথার ডান পাশে এবং বাম হাতের কনুইতে গুরুতর জখম হয়। তাৎক্ষণিক বাবা দুলাল খাঁন ও স্বজনরা শিশুটিকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রকিবুল ইসলাম তাকে সঙ্কটজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটি ওইদিন সন্ধ্যায় মারা যায়।
ঘটনার পরপরই চাচা হাবিলকে স্থানীয়রা ধাওয়া করে। হাবিল একটি বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে আটক করে।
ঘাতক হাবিল খাঁন ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে নিহত শিশুর বাবা বড় ভাই দুলাল খাঁনের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগমকে জবাই করে হত্যা করেছে।
ওই মামলায় শিশু আইনে তার ৯ বছর সাজা হয়। সাজা ভোগ শেষে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে জামিনে মুক্তি পায়। ভাবীকে হত্যার ১০ বছর পরে ঘাতক হাবিল বড় ভাই দুলাল খাঁনে দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা আক্তারের কন্যা তাননুরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ রাত ১০ টার দিকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রেখেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান তালতলী থানায় ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুলাল খাঁন মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় ঘাতক হাবিল খাঁনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রানা হাওলাদার বলেন, শিশু কন্যা তাননুর দোকানে যাওয়ার পথে পিছন দিক থেকে একটি মোটা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই মেয়েটি লুটিয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধার করে তালতলী হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বড় ভাই দুলাল খান কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, ও আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। ২০১৫ সালে আমার প্রথম স্ত্রীকে জবাই করে হত্যা করেছে। তখন ওর বয়স ছিল ১৭ বছর। শিশু আইনে ৯ বছর সাজা ভোগ করে ২০২৪ সালের প্রথম দিকে জামিনে মুক্তি পায়।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার দের বছরের মাথায় আমার শিশু কন্যাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমার শিশু কন্যা কি অপরাধ করেছিল? আমি ঘাতক হাবিলের ফাঁসি চাই।
ইউপি সদস্য মো. টুকু সিকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য সালাম হাওলাদার বলেন, ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা হাবিলকে ধাওয়া করলে একটি বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
তারা আরো বলেন, হাবিল এর আগে ওর ভাইয়ের প্রথম স্ত্রীকে হত্যা করেছে।
তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ রকিবুল ইসলাম বলেন, শিশুটির মাথার ডান পাশে এবং বাম হাতের কনুইতে গুরুতর জখম চিহৃ ছিল। তাৎক্ষণিক শিশুটিকে সঙ্কটজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জানতে পারলাম শিশুটি বরিশাল নেয়ার পথেই মারা গেছে।
তালতলী থানার ওসি মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, ঘাতক হাবিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।
তিনি আরো বলেন, শিশুকে পিটিয়ে হত্যার কারণ এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনার শিশু বাবা দুলাল খাঁন বাদী হয়ে হাবিলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মন্তব্য করুন