

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডিমবোঝাই পিকআপে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা চারটি বাস ও একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দিলে মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পাঁচটার দিকে খুলনামুখী একটি ডিমবোঝাই পিকআপের চাকা পাংচার হয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন পিকআপটি সরিয়ে নিতে সহায়তা করছিলেন। এ সময় ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে খুলনাগামী নড়াইল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী বাস এসে পেছন থেকে বিকল পিকআপটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে পিকআপের পাশে থাকা কয়েকজন বাসের চাপায় আহত হন। ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের নাদিম বলেন, হাসপাতালে আনার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আরও তিনটি বাস ও একটি পিকআপেও আগুন দেওয়া হয়। এতে মোট চারটি বাস ও একটি পিকআপ পুড়ে যায়।
আগুন ও বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উভয় দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলে এবং একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
রাত পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।