শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

"টাঙ্গাইল ঢাকাতেই থাকবে, নয়তো আলাদা বিভাগ"

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৫ এএম
expand
"টাঙ্গাইল ঢাকাতেই থাকবে, নয়তো আলাদা বিভাগ"

টাঙ্গাইল জেলাকে ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে স্থানীয়রা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্রান্তের গোলচত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ।

সেখানে অবস্থান নিয়ে যমুনা সেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা।

অবরোধ চলাকালে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "টাঙ্গাইল ঢাকাতেই থাকবে। অন্যথায় আলাদা বিভাগ করতে হবে।" এ দাবির বাইরে কোনো কিছু মানা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অবরোধের কারণে যমুনা সেতু-সংলগ্ন মহাসড়কে উভয়পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে। থেমে যায় টোল আদায় কার্যক্রমও। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফেসবুকে একাধিক গ্রুপে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তা জনসমর্থনে রূপ নেয়। সোমবার এই অনলাইন প্রতিবাদ মাঠে গড়ায়—রাস্তায় নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আন্দোলনকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন: "টাঙ্গাইল ঢাকায় থাকবে",

"ভাগ টানবেন না, আন্দোলন ঠেকাতে পারবেন না" "টাঙ্গাইল নিয়ে ষড়যন্ত্র চলবে না"।

"২৫ লাখ মানুষের স্বাক্ষর দিয়েও থামেনি চক্রান্ত"

অবরোধ চলাকালে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যক্তিরা—আকবর হোসেন, রাশেদ মিয়া, মিজানুর রহমান, সুরুজ খান, শিশিরসহ অনেকে। মিজানুর রহমান বলেন,

“এর আগেও একবার টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তখন ২৫ লাখ মানুষ স্বাক্ষর দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এখন আবার সেই পুরোনো চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমরা স্পষ্ট বলছি—ঢাকাতেই থাকব, নয়তো নতুন বিভাগ চাই।”

আন্দোলনকারীরা জানান, সম্প্রতি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জকে ময়মনসিংহ বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে নতুন ম্যাপও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এই প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন,

“এভাবে জনগণের মতামত ছাড়াই কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়া হবে।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আলোচনা শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন।

“প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।”

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলামও জানান,

“আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।”

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহকে দেশের অষ্টম বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখনই টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জকে এই বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু টাঙ্গাইলবাসীর ব্যাপক প্রতিরোধ এবং ২৫ লাখেরও বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রতিবাদ জানানোর পর সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।

বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগ ভেঙে নতুন বিভাগ গঠনের চিন্তা করছে। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই আবারও টাঙ্গাইলকে ময়মনসিংহের অংশ করার প্রস্তাব সামনে এসেছে।

তবে টাঙ্গাইলবাসীর অবস্থান এবারও স্পষ্ট—“ঢাকা বিভাগে টাঙ্গাইল, নয়তো আলাদা বিভাগ”।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন