

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অটোরিকশাচালক আবদুল কাদের হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পরিবারের একটি ছাগল বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবা, মা ও ছোট ভাই মিলে কাদেরকে হত্যা করেন। পরে লাশ তিন দিন বাড়ির রান্নাঘরের মেঝের নিচে মাটিচাপা দিয়ে রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়ালে সেটি খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় কাদেরের বাবা লিটন (৫০), মা কাজল বেগম (৪৫) ও ছোট ভাই রাকিব হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে নাঙ্গলকোট থানা-পুলিশ। বুধবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় কাদেরের মামা রিপনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে নাঙ্গলকোট থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান এসব তথ্য জানান।
ওসি বলেন, গত ২৯ জুন সকালে উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের পদুয়ারপাড় এলাকার একটি খালে কচুরিপানার নিচে অর্ধগলিত একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় নিশ্চিত করা না যাওয়ায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়। পরে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তি উপজেলার কুরকুটা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কাদেরের স্ত্রী নাজমা আক্তার ৩০ জুন নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে কাদেরের মা কাজল বেগম ও বোন লিজা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। পরে ফেনী জেলার সদরপুর রেলগেট এলাকা থেকে কাদেরের বাবা, মা ও ছোট ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান, গত ২৫ জুন বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি নিয়ে কাদেরের সঙ্গে তাঁর বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই তাঁরা কাদেরকে উপজেলার আদ্রা উত্তরপাড়া গ্রামে তাঁর নানার বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মারধরের পর হাত-পা বেঁধে পুকুরে ফেলে হত্যা করা হয়।
পরে লাশ বাড়িতে এনে রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দিয়ে তার ওপর স্লাব বসিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা ওই রান্নাঘর ব্যবহার করলেও লাশ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ২৯ জুন রাতে কাদেরের অটোরিকশায় করে লাশ পদুয়ারপাড়-মেরকোট সড়কের পাশের একটি খালে নিয়ে কচুরিপানার নিচে ফেলে দেওয়া হয়। এ কাজে পলাতক মামা রিপনও সহযোগিতা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থল ও আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশ বহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা, রান্নাঘর থেকে একটি কোদাল, একটি সাবল এবং হাত-পা বাঁধতে ব্যবহৃত দড়ি জব্দ করেছে।
ওসি আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।