

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ৫২ দিন পর গরুর খামারের রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে আওলাদ হোসেন শেখ (৬৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৯ মে সিরাজদিখান উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নের চাইনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন শেখ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন তাঁর ভাই সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২৩ মে আওলাদের ছোট ভাই বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে আওলাদের স্ত্রী রানী বেগম, তাঁর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে গত ৩১ মে মানিক বেপারীকে আটক করা হয়। পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ৩০ জুন সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রিপন ও বিন আমিন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাইনপাড়া গ্রামের বোরহান বেপারীর গরুর খামারের রান্নাঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় আওলাদ হোসেন শেখের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে পুলিশ জানায়, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর আওলাদ হোসেন রানী বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। এ ছাড়া রানী বেগম ও তাঁর ভগ্নিপতি মানিক বেপারী আওলাদ হোসেনকে তাঁর জমিজমা রানী বেগমের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। তবে তিনি এতে রাজি হননি। পাশাপাশি তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ মে সন্ধ্যায় মানিক বেপারী কৌশলে আওলাদ হোসেনকে বোরহান বেপারীর গরুর খামারে নিয়ে যান। সেখানে সাইফুল ইসলাম তাঁর মাথা চেপে ধরেন এবং মানিক বেপারী কোদাল দিয়ে গলায় আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন। এ সময় বাইরে রিপন ও বিন আমিন পাহারায় ছিলেন। পরে তাঁরা খামারের রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত করে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মানিক বেপারী (৩০), সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. রিপন (৩৪) ও মো. বিন আমিন শেখ (৩৫)।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।