

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাছ পরিবেশের পরম বন্ধু। অথচ সেই বন্ধুকেই নৃশংসভাবে পুড়িয়ে মারার ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। উপজেলার আলফাডাঙ্গা-কাশিয়ানী সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকাজুড়ে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা অন্তত ২০টি মেহগনি গাছের গোড়ায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে চারটি গাছ সম্পূর্ণ পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে এবং বাকি গাছগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মৃত্যুর মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আলফাডাঙ্গা-কাশিয়ানী সড়কের লাঙ্গুলিয়া এলাকার সাইফুল মোল্যার চায়ের দোকান থেকে বড়ভাগ উত্তরপাড়া মসজিদ সংলগ্ন সেতু পর্যন্ত অংশটি বেশ নির্জন। আশপাশে বসতবাড়ি না থাকায় সুযোগ নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মেহগনি গাছগুলোর গোড়ায় পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়া হয়েছে। আগুনে গাছগুলোর নিচের অংশ পুড়ে কালো হয়ে গেছে। এতে যেকোনো সময় গাছগুলো ভেঙে পড়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চৈতালী ফসল শুকানোর পর এর উচ্ছিষ্ট অংশ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের আঁধারে কোনো মাদকসেবী বা দুর্বৃত্ত ওই উচ্ছিষ্টে আগুন দিলে তা ছড়িয়ে পড়ে গাছের গোড়ায়, ফলে গাছগুলো পুড়ে যায়।
লাঙ্গুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খিজির মোল্যা ও সোহরাব মোল্যা বলেন, “প্রায়ই রাতে বা সন্ধ্যায় এভাবে আগুন দেওয়া হয়। আমরা টের পেলে নেভানোর চেষ্টা করি, কিন্তু বেশিরভাগ সময় অন্ধকারে গাছগুলো নীরবে পুড়ে শেষ হয়ে যায়। গাছগুলো রক্ষা করতে হলে সড়কে ফসল শুকানো বন্ধ করা জরুরি।”
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা বন কর্মকর্তা শেখ লিটন বলেন, 'খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জীবন্ত গাছের সাথে এমন আচরণ সত্যিই অত্যন্ত কষ্টদায়ক, জঘন্য ও দুঃখজনক। আমরা ইতিমধ্যে ঘটনার খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছি। এই অপরাধের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।' তিনি আরও জানান, গাছগুলোকে রক্ষা করতে আগামীতে এই সড়কে কোনো ধরনের ফসল শুকাতে দেওয়া হবে না।
