

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় বাজেট নিয়ে যখন দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা, তখন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার পাঁচটি চা বাগানের অধিকাংশ শ্রমিকের কাছে বাজেট যেন এক অপরিচিত বিষয়। রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল সম্পর্কে তাদের জানাশোনা সীমিত; বরং দৈনন্দিন জীবিকার সংগ্রামই তাদের প্রধান চিন্তার বিষয়।
মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর, জগদীশপুর, তেলিয়াপাড়া ও সুরমা চা বাগানের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয় বাজেট কী, এতে তাদের জন্য কী বরাদ্দ থাকে কিংবা এর প্রভাব তাদের জীবনে কীভাবে পড়ে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই অধিকাংশ শ্রমিকের।
নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক রমেশ সাঁওতাল বলেন, “বাজেটের কথা টেলিভিশনে শুনি, কিন্তু এর ভেতরে কী থাকে তা জানি না। আমাদের চিন্তা সপ্তাহ শেষে মজুরি পাব কি না, সন্তানদের খাবার জুটবে কি না।”
একই বাগানের নারী শ্রমিক শ্যামলী মুন্ডা বলেন, “বাজারে সবকিছুর দাম বাড়ে, কিন্তু আমাদের আয় বাড়ে না। বাজেটে আমাদের জন্য কিছু আছে কি না, কেউ কখনো জানায় না। আমরা শুধু চাই, এমন সিদ্ধান্ত হোক যাতে আমাদের জীবন একটু ভালো হয়।”
তবে স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিকের মতে, মাধবপুর-চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ-৪) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল চা শ্রমিকদের কল্যাণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিভিন্ন বাগানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, কর্মবিরতির সময় খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ নানা কর্মকাণ্ডের কারণে শ্রমিকদের মধ্যে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন বলে তারা জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনও দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। বাসস্থান, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাসেবার সংকট দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন চা বাগানে বকেয়া মজুরি ও রেশন নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষও দেখা গেছে। হবিগঞ্জের কয়েকটি বাগানে বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন ও কর্মবিরতিও পালন করেছেন।
শ্রমিক নেতাদের দাবি, জাতীয় বাজেটে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিশুদের শিক্ষার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাজেট প্রণয়নের সময় তাদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চা শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনও অনেক পিছিয়ে। কম মজুরি, সীমিত সামাজিক নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবার ঘাটতির কারণে তারা জাতীয় অর্থনৈতিক নীতির সুফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাজেট ঘোষণার পর শুধু শহরকেন্দ্রিক আলোচনা নয়, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যেও বাজেটের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে চা শ্রমিকদের মতো পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কাছে বাজেটের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের বাস্তব চাহিদাকে বাজেটে প্রতিফলিত করা জরুরি।
চা শ্রমিকদের ভাষায়, “বাজেট বুঝি না, কিন্তু এমন বাজেট চাই যাতে আমাদের জীবনটা একটু ভালো হয়।”