

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান বলেছেন, যেখানে পুলিশ থাকবে, সেখানে মাদকে জড়িতরা থাকতে পারবে না। মাদকের বিষয়ে চাঁদপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স। মাদক নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মাদকের কুফল সম্পর্কে বলানো এবং জনমত সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হবে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে মতিবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আপনাদের বক্তব্যের মাধ্যমে জেলার সম সমায়কি সমস্যাগুলো উঠে এসেছে। বিশেষ করে মাদক, কিশোর গ্যাং ও সড়ক দুর্ঘটনা। গত ডিসেম্বর মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত সড়কের অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৬৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। এই সময়ে আটক করা হয়েছে ৩৮৭ জন কিশোর গ্যাং সদস্য। আর মে মাসে মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ২১৮টি।
এসপি বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পরিবার থেকে। অভিভাবকদের আরো সচেতন হবে। সন্ধ্যার পর আপনার সন্তান কোথায় থাকে, কি করে খোঁজ রাখতে হবে। তারপরেও পুলিশ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল বৃদ্ধিসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর মাদকের ভয়াবহতা কমাতে কমিউনিটি পুলিশিং সক্রিয় করা হবে। এলাকা ভিত্তিক সচেতনতামূলক সভা হবে। যারা মাদক ছেড়ে আসবে তাদেরকে ধর্মীয় কাজে (তাবলিগ) লাগানো হবে। তার মাধ্যমে পরিবারের উপার্জন না হলেও যাতে খরচ না হয়।
পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো জেলার দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান। বিশেষ করে খুব শিগগিরই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠন হবে।
সভায় আরো বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. লুৎফর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীর।
সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী, সাংবাদিক আলম পলাশ, ফারুক আহম্মেদ শাহাদাত হোসেন শান্ত, আল-ইমরান শোভন, কাদের পলাশ, মো. মাসুদ আলম, তালহা জুবায়ের, শরীফুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, ফরিদুল ইসলাম, এইচএম নিজাম, মনির হোসেন ও ইমতিয়াজ আহম্মেদ।
সাংবাদিকদের সাথে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সভা করায় সকলের পক্ষে জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ জানান প্রেস ক্লাব সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি পুলিশ ঈদের আগে ও পরে যথেষ্ট আন্তরিক হয়ে কাজ করেছে। তারপরেও যে কোন ঘটনার পর জনগণ পুলিশের প্রদক্ষেপ জানতে চায়। আমি মনে করে পুলিশ আরো সক্রিয়ভাবে কাজ করবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সব ধরণের সহযোগিতা করবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকরা ট্রাফিক পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অন্য জেলার সিএনজি চালিত অটোরিকশা চাঁদপুরে চলাচল, শহরের ওয়ারলেছ মোড়ে পুলিশ বক্সের সাথে মাইক্রো স্ট্যান্ড, রাতে পুুলিশের টহল গাড়ি না থাকা, অবৈধ যানবাহন আটক করে জরিমানা রেখে মালিককে ছেড়ে দেয়া, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানা, মাদক কেনাবেচার স্থানগুলো চিহ্নিত করার তথ্য তুলে ধরেন।
সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র ওসি মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।