

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের এক পরিদর্শনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন হাসপাতালের এক চিকিৎসক।
ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রী খাবারের মান পরীক্ষা করতে গিয়ে চামচে নেওয়া গরম তরকারিতে ফুঁ দিচ্ছেন। এ সময় তাঁর পাশে থাকা এক চিকিৎসকও একই চামচের দিকে ফুঁ দেন। এ দৃশ্য নিয়েই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিডিওতে থাকা ওই চিকিৎসক হলেন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. জি আর এম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ।
গত ২৫ মে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাসপাতালের রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারের গুণগত মান যাচাই করতে তিনি রান্নাঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, চামচে নেওয়া খাবারটি গরম থাকায় মন্ত্রী সেটি ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিচ্ছেন। ঠিক তখনই পাশে থাকা ডা. রিয়াজও একই চামচের দিকে ফুঁ দেন। মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দী হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডা. রিয়াজ কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৩২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসা ক্যাডারে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। বর্তমানে ওই কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. রিয়াজ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হবে, তা আমি কল্পনাও করিনি। মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে থাকা খাবারটি খুব গরম ছিল। সেটি ঠান্ডা করার উদ্দেশ্যেই আমি ফুঁ দিয়েছিলাম। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও তাৎক্ষণিক একটি ঘটনা।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, আবার কেউ এটিকে পেশাদার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সমালোচনা করেছেন।