

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার লাকসামে এক কিশোরীকে (১৬) বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে, একদল লোক বাড়িতে হামলা চালিয়ে জোরপূর্বক তাকে নিয়ে গেছে। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাটির পেছনে পূর্বের প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি ডুপ্লেক্স বাড়ির ছাদ থেকে এক কিশোরীকে কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন ব্যক্তি। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে বেশ কয়েকজন লোক উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের চিৎকার করতে দেখা গেলেও কাউকে বাধা দিতে দেখা যায়নি।
এ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকসাম উপজেলার হারাখাল এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মো. মাসুদ রানা (৩২) নামের এক ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে বিয়ে করেন। পরে কিশোরী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিবার মাসুদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ দুজনকে আটক করে আদালতে পাঠায়। আদালত মাসুদ রানাকে কারাগারে পাঠান এবং কিশোরীকে পরিবারের জিম্মায় দেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সোমবার রাতে মাসুদ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে কিশোরীকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, রাতের ঘটনায় তাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাট করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা নগদ ১৭ লাখ টাকা এবং ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। পরে জোরপূর্বক তার মেয়েকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, তুলে নেওয়ার ঘটনায় মেয়েটির সম্মতি থাকতে পারে। কারণ তাদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা বিয়েও করেছিল। তবে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ওসি আরও বলেন, কিশোরীর পরিবার নতুন করে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।