

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গাছ লাগানো এবং গাছে সেবা, যত্ন করাই তার নেশা। নিজের বাড়ি থেকে শুরু করে আশপাশের সরকারি-বেসরকারি খোলা জায়গাগুলো যেখানেই একটু ফাঁকা জমি দেখেন, সেখানেই চারা রোপণ করেন তিনি। নিজের পকেটের টাকায় গাছ লাগানোই তার কাজ।
গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব আটখালী গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার (৮৩) সাত দশক বেশি সময় ধরে একটানা গাছ লাগিয়ে আসছেন। এলাকায় তিনি পরিচিত “বৃক্ষপ্রেমিক সিরাজুল” নামে। এ সময়ের মধ্যে তিনি প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করেছেন। নিজের টাকায় অন্যের জমিতে গাছ লাগায় তাই অনেক তাকে পাগল মনে করেন।
প্রতিটি মৌসুমেই তিনি গাছের যত্নে ব্যস্ত থাকেন। শুধু নিজেই গাছ লাগান না, আশপাশের মানুষকেও গাছ লাগাতে বলেন।
সিরাজুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবা আলতাফ হোসেন হাওলাদারের সাত ছেলের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ১৯৮৬ সালে ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল (এমএ) পাস করার পর গলাচিপা শহরসহ নিজ গ্রামের বেশ কয়েকটি মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গাছের প্রতি তার ভালোবাসার শুরু শৈশব থেকেই। তিনি বলেন, ‘গাছ মানুষকে অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়, ফল দেয়। ক্লান্ত পথিক গাছের নিচে বিশ্রাম নেয়। গাছের পাতা পচে সার হয়—প্রকৃতি এভাবেই বাঁচে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেশিরভাগ চারা আমি নিজেই বাড়িতে তৈরি করি। কিছু বাজার থেকেও কিনি। বর্ষায় বেশি গাছ লাগাই, বাকি সময় পরিচর্যা করি।’
তার রোপিত গাছের তালিকায় আছে—সুপারি, নারিকেল, পেয়ারা, জাম্বুরা, তাল, মেহগনি, রেইনট্রিসহ বহু প্রজাতি গাছ।
ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওর্য়াডের ইউপি সদস্য জাকির খান বলেন, আমি ছোট সময় থেকে দেখি তিনি গাছ লাগায়। সিরাজুল চাচা রাস্তার দুই ধারে গাছ লাগানো যেন তার নেশা ও পেশা।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন,সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার আমাদের সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে
মন্তব্য করুন