

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে। তবে টানা বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদে বাড়ি ফেরা লাখো মানুষ।
বুধবার (২৭ মে) ভোর থেকে মহাসড়কের যমুনা সেতু পূর্বপ্রান্ত থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে থাকে যানবাহন।
পাবনার বাসিন্দা মিরাজ উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভৈরব থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ভোর ৫টায় চন্দ্রা এলাকায় পৌঁছালেও এরপর শুরু হয় দুর্ভোগ। দুপুর ২টা পর্যন্ত তিনি টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
তিনি বলেন, চন্দ্রা থেকে পৌলী আসতে সাধারণত এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু আজ প্রায় আট ঘণ্টা ধরে রাস্তায় বসে আছি। ছোট বাচ্চা ও নারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। ঈদের আগে এমন ভোগান্তি সত্যিই দুর্বিষহ।
রাজশাহীগামী যাত্রী সেলিম রেজা বলেন, সকালে ভেবেছিলাম দুপুরের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছে যাব। কিন্তু যানজটের কারণে এখনো টাঙ্গাইল পার হতে পারিনি। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
একই বাসের যাত্রী গৃহিণী নাসরিন আক্তার বলেন, গাড়িতে শিশু নিয়ে বসে থাকা খুব কষ্টকর। বারবার বৃষ্টি হচ্ছে, আবার গাড়িও এগোচ্ছে না। ঈদযাত্রা আনন্দের হওয়ার কথা, কিন্তু এবার তা দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
বাসচালক আব্দুল কাদের বলেন, অতিরিক্ত গাড়ির চাপের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতি কমে গেছে। একটি গাড়ি থেমে গেলেই পেছনে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফ হোসেন বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। সেই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।