

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরগুনার আমতলী উপজেলার এ.কে. স্কুল সংলগ্ন সুবর্ণা হোটেলটি এখন পরিচিত ‘গরিবের হোটেল’ নামে। গত ১৮ বছর ধরে হোটেলটির মালিক বশির ডিলার প্রতি বুধবার দরিদ্র, অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষদের বিনামূল্যে একবেলা পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতি বুধবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক হতদরিদ্র মানুষ জড়ো হন সুবর্ণা হোটেলের সামনে। সেখানে তারা পরিপাটি পরিবেশে, বিনা খরচে উপভোগ করেন একবেলা ভাত, মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবজি। দৃশ্যটি যেন কোনো উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের মতো তবে এর পেছনে আছে নিঃস্বার্থ মানবিকতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের তাগিদ।
হোটেল মালিক বশির ডিলার বলেন, কোনো প্রচার বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয় শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি আর নিজের আত্মতৃপ্তির জন্যই আমি এ কাজ করি। গত ১৮ বছর ধরে যতটুকু পারি, অসহায় মানুষদের একবেলা ভালোভাবে খাওয়ানোর চেষ্টা করছি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।
তার এই উদ্যোগকে উপজেলাবাসী দেখছেন এক অনন্য মানবিক উদাহরণ হিসেবে। আমতলীর বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বশির ডিলারের প্রশংসা করেছেন নিঃস্বার্থ এই কর্মকাণ্ডের জন্য।
প্রতি বুধবার দুপুরে খাবারের টেবিলে দেখা যায় নানা শ্রেণির শতাধিক দরিদ্র মানুষকে। কেউ ভিক্ষা করেন, কেউ দিনমজুর, কেউবা একেবারে আশ্রয়হীন। কিন্তু খাবারের লাইনে নেই কোনো বিশৃঙ্খলা বা হুড়োহুড়ি— সবাই শান্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের ভাগের খাবার গ্রহণ করেন।
খাবার খেতে আসা আলেয়া বেগম, যিনি ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবনধারণ করেন, বলেন, আমরা গরিব মানুষ। মাংস খাওয়া তো দূরের কথা, বছরে একবারও কিনতে পারি না। বুধবার দুপুরে এখানে এসে মাংস বা মাছ দিয়ে পেট ভরে খাই। মনে হয় যেন ঈদের দিন।
আরেক প্রবীণ অসহায় ব্যক্তি আব্বাস আলী বলেন, এখন আর কিছু আশা করি না। সপ্তাহে একদিন এখানে এসে পেট ভরে খেতে পারি, তাতেই শান্তি পাই। ওনার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন ওনার ব্যবসা আরও বাড়ে এবং উনার বাবা জান্নাত নসিব পান।
হোটেলের কর্মচারীরা জানান, মালিক বশির ডিলার তাদের বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন প্রতি বুধবার যে কেউ যদি গরিব, অসহায় বা অর্থহীন হয়ে খাবার চায়, তাকে আগে খাবার দিতে হবে।
মানবিক এই উদ্যোগ আজ আমতলীর গর্বে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন সুবর্ণা হোটেলকে শুধুই খাবারের স্থান নয়, বরং ‘মানবতার আশ্রয়স্থল’ হিসেবে দেখে।
মন্তব্য করুন