

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদীর রায়পুরায় গণিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (আজ) সকালে অসুস্থ অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, সকাল থেকে কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে সে।
আহত শিক্ষার্থীর নাম সাইমা আক্তার (১৫)। সে রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ফাইজ উদ্দিন, যিনি স্থানীয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল হেরা একাডেমির গণিত বিষয়ের শিক্ষক। ইতোমধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার প্রথম পর্বের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাইমা গণিতে কম নম্বর পায়। পরদিন স্কুলে গেলে শিক্ষক ফাইজ উদ্দিন শাসনের নামে তার ঘাড়ে পরপর ১২টি বেত্রাঘাত করেন বলে অভিযোগ। বাড়িতে ফেরার পর থেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে।
পরবর্তীতে তার শরীরে জ্বর দেখা দেয় এবং অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকায় রেফার করেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তার ভাষ্য, সে কম নম্বর পেয়েছে, তাই শাসন করেছি। কিন্তু বেত্রাঘাত করিনি। তার অসুস্থতার খবর শুনে খোঁজ নিয়েছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক পনির হোসেন বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার সুযোগ নেই। ঘটনাটি জানার পর ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যয় বহনের দায়িত্বও স্কুল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে স্কুল, হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং শিক্ষাঙ্গনে শারীরিক শাস্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মন্তব্য করুন