

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক দম্পতির বিবাহ বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আইনগতভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন হওয়ার কাগজ হাতে পেয়ে দুধ দিয়ে গোসলের ভিডিও নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ বাড়িতে পরিমল চন্দ্র দাস পাঁচ লিটার দুধ দিয়ে গোসল করেছেন। পরিমল বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর রহমতপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিমল চন্দ্র দাস ও দীপা রানী দাসের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে মেয়ে ইয়ানী (৭) এবং ছেলে প্রনব দাস (১৫) নামের দুটি সন্তান রয়েছে।
পরিমল চন্দ্র দাস জানান, ২০০৯ সালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা এলাকার প্রশান্ত দাসের মেয়ে দীপা রানী দাসের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন। জীবিকার প্রয়োজনে একসময় তিনি (পরিমল) শশুরবাড়িতে বসবাস শুরু করেন, যেখানে তিনি নির্যাতন ও হুমকির মুখে পরেন বলেও অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে তিনি সেখান থেকে চলে এসে প্রায় ছয় বছর আলাদা বসবাস করেন।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা করা হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা না হওয়ায় আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদের আগেই তাকে না জানিয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে অন্য পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র ও হলফনামা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আইনগতভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয় ওই দম্পতির।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক বাক্তি জানান, দীঘদিন ধরেই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল এবং একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান, আসেনি। বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ পাওয়ার পর পরিমল চন্দ্র দাস দুধ দিয়ে গোসল করেন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, পরিমল চন্দ্র দাস ও দীপা রানী দাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিষয়ে পরিমল ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি জানতে পেরেছি।
মন্তব্য করুন