মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
expand
‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃষকদের জন্য চালু করা হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ‘কৃষক কার্ড’।

এর উদ্বোধনের মাধ্যমে কৃষিখাতে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলে আয়োজিত এক বৃহৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেন।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রাণ হলো কৃষক। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা সহজেই সার, বীজ, ভর্তুকি, কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এতদিন অনেক কৃষক বিভিন্ন জটিলতার কারণে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। কিন্তু এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সেই সমস্যা দূর হবে এবং প্রকৃত কৃষকরাই সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে করে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, এই কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষকদের একটি একক পরিচয় নিশ্চিত হলো। এখন থেকে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে কোন সরকার এধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,এই উদ্যোগ শুধু ফসল উৎপাদন নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের আওতায় সকল খাতের কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি,ডাক প টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম , মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর, যেখানে বিপুল সংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

বক্তারা বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, আগে সরকারি সহায়তা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। এখন এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সুবিধা পাওয়া যাবে, যা তাদের কৃষিকাজে নতুন উদ্দীপনা যোগাবে।

কৃষক কার্ড পাওয়া কৃষক কায়সার বলেন,আমরা অনেক সময় সরকারি সহায়তা পেতে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো। এখন এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সহজেই সব সুবিধা পাবো বলে আশা করছি। এতে আমাদের কাজ আরও সহজ হবে।

আরেকজন কৃষানী জুলেখা বেগম বলেন,এই উদ্যোগ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগে অনেক ক্ষেত্রে আমরা বঞ্চিত হতাম, কিন্তু এখন সরাসরি সরকারের সহায়তা পাওয়া যাবে। এতে কৃষিকাজে আগ্রহ আরও বাড়বে।

কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষক মেলা পরিদর্শন করে উদ্বোধন করে ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হোন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন