বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাটে দাম না পেয়ে তামাকে আগুন দিলেন চাষিরা

রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

সারাদেশ যখন মেতেছে বর্ষবরণের উৎসবে ঠিক তার ভিন্ন চিত্র দেখা গেলো রংপুরের একটি হাটে। উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা অনেকটাই নির্ভর করে তামাক চাষে। সেই তামাকেই এবার দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা গেছে সদর উপজেলার হরিদেব ইউনিয়নের হরকলি বাজারে। বৈশাখের প্রথম দিনেই এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১লা বৈশাখ) সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ কৃষকেরা তামাক পাতা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে আসেন। নতুন বছরের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর আশায় ছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় নিজের উৎপাদিত তামাকে আগুন ধরিয়ে দেন কয়েকজন চাষি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই তামাক চাষের জন্য পরিচিত। বিভিন্ন কোম্পানি নিবন্ধিত চাষিদের মাধ্যমে তামাক উৎপাদন করালেও, অনেক প্রান্তিক কৃষক নিবন্ধনের বাইরে থেকেও অধিক লাভের আশায় এ ফসল চাষ করেন। তবে চলতি মৌসুমে তামাকের বাজারমূল্য আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে তামাকের ভালো দাম থাকলেও এবার উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য অত্যন্ত কম। এতে করে তারা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

কৃষক আব্দুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমরা চাষিরা খুব অসহায়। অনেক কষ্ট করে তামাক চাষ করেছি, কিন্তু বাজারে কোনো দাম নেই। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।

হতাস নিয়ে তামাকচাষি সাইফুল বলেন, তামাক চাষে সবচেয়ে বেশি সার লাগে। চড়া দামে সার কিনেছি, মজুরির খরচও অনেক। এক মন তামাক উৎপাদনে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু বাজারে এসে সেই খরচও উঠছে না।

প্রান্তিক এক বর্গাচাষি হতাশা প্রকাশ করে বলেন,মোর নিজের জমি নাই। মানুষের জমি বর্গা নিয়ে ঋণ করে চাষ করছি। এখন তামাকের দাম নাই—মোর কবর হইয়া গেল। সংসার চালামু কেমনে, বাচ্চার পড়ালেখার খরচ দিবো কেমনে?

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কৃষকদের এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষকেরা সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে তারা চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন, যা ভবিষ্যতে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন