বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র
expand
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সমাজ সহিলদেও স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি যেন এখন ইচ্ছেমতো চালু-বন্ধের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। সরকারি সময়সূচি উপেক্ষা করে খামখেয়ালিভাবে কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগে চরম ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ফটকে ঝুলছে তালা। অথচ এ সময় কেন্দ্রটি খোলা থাকার কথা। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরতে দেখা যায় কয়েকজন সেবাপ্রার্থীকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে একজন মিডওয়াইফারি নার্স স্থায়ীভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুইজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) কে রোস্টার ডিউটিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে এই ব্যবস্থার কোনো কার্যকারিতা নেই বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নিজেদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করে কেন্দ্রে আসেন। কখনো হঠাৎ একদিন খুলে সেবা দেওয়া হলেও আবার টানা ৭ থেকে ১৫ দিন তালাবদ্ধ থাকে কেন্দ্রটি। এমনকি যেদিন খোলা হয়, সেদিনও মাত্র ৩-৪ ঘণ্টা কার্যক্রম চালিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময়সূচির তোয়াক্কা না করে এ ধরনের অনিয়মে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সহিলদেও গ্রামের বাসিন্দা লাহুত মিয়া বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়ার পর ভেবেছিলাম আমাদের একটু উপকার হবে। কিন্তু এখন দেখি ৭-১৫ দিনে একদিন খুলে, তাও আবার ৩-৪ ঘণ্টা পর বন্ধ করে দেয়। সারাবছরই এই অবস্থা।

একই গ্রামের নেহেরা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি দরকারে গেলেও কেন্দ্র খোলা পাই না। ওষুধও পাওয়া যায় না। দেখারও কেউ নাই। সরকার শুধু বেতন দিয়ে টাকা নষ্ট করছে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেফালী আক্তার বলেন, হাসপাতাল প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকে। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন জানানোই বন্ধ করে দিয়েছি। স্টাফরা ১৫ দিনে একবার আসে, এলেও ৩-৪ ঘণ্টা থেকে চলে যায়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দায়িত্বরত কর্মী শিল্পী বেগমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মোমেনুল ইসলাম জানান, ওই কেন্দ্রে একজন মিডওয়াইফারি নার্স নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন। আরও দুইজনকে সেকমো কে রোস্টার ডিউটি দেওয়া হয়েছে। তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অনুপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন