

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে চাঁদা না দেওয়ায় খনন কাজের ভেকুতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন জাহিদ হোসেন নামের এক ব্যাক্তি। উপজেলার কুমুরিয়াবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা পরিচালিত কালিহাতী উপজেলার বংশী নদীতে ২০ কিলোমিটার খনন কাজ পায় “মেরিন হাউজ ড্রেজিং-এমসিএল জেভি” নামে যৌথ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। খনন কাজ করতে গিয়ে মাটি সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে এলাকাবাসীর নিকট মাটি সংরক্ষণের জন্য জমি লিজ-ভাড়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ভূমি মালিকরা কমিটি করেন এবং স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান ও মন্দিরে মাটি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্তে জমি ভাড়া দেন। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ড্রেজিং কাজ চলছিলো।
কাজ চলমান অবস্থায় বিএনপি’র স্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী কোম্পানীর নিকট চাঁদা দাবী করে এবং কাজ বন্ধ করে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবী করে। অন্যথায় খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে ফোনে হুমকি দেয়।
এদিকে, খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে মসজিদে মাটি সরবরাহের জন্য ডিসি অফিসে আবেদন করে স্থানীয়রা। আবেদন ও জমি ভাড়ার শর্ত সাপেক্ষে গত ১৩ মার্চ রাতে খননকৃত মাটির স্তুপের ১৯নং ডাইক থেকে কিছু মাটি নিজ খরচে স্থানীয় একটি মসজিদে সরবরাহ করেন কমিটির লোকজন। চাঁদা দাবী করা ব্যক্তিরা মসজিদে মাটি ফেলা দেখে ইউএনও কে জানায় খননকাজের মাটি বিক্রি হচ্ছে এ খবরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরে রাত আনুমানিক ১ টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আশরাফের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন লোক ওই মাটির ডাইকে হামলা চালিয়ে ভেকু ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী এতে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মার্চ বিএনপি’র কিছু নেতা, দুষ্কৃতিকারী ব্যক্তি চাঁদা না দেওয়ায় মসজিদে মাটি ভরাটের বিষয়টি মাটি বিক্রি হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসনকে ভূল ব্যাখ্যা দেন। বিষয়টি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। পর্যবেক্ষণকালে ইউএনও লোকজন কাউকে না পেয়ে কোন তদন্ত না করেই ভেকুটির গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে এবং দুটি ব্যাটারী খুলে নিয়ে যায়। ইউএনও চলে যাওয়ার পর আনুমানিক রাত ১টার দিকে নাগবাড়ী ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের ১০-১৫ জন লোকের উপস্থিতিতে ২ জন লোক হেমার দিয়ে ভেকুটির ইঞ্জিন, গ্লাস, মোটর, ডিজেল ট্যাংকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ক্ষতিগ্রস্থ করে ডিজেল চুরি করে নিয়ে যায়। পরে চাঁদা না পাওয়া ওই ব্যক্তিরা ভেকু ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জমি লিজ কমিটির সদস্য ও গ্রামবাসী জানান, সোমজানী একটি মসজিদ কমিটি থেকে ডিসি মহোদয়ের নিকট আবেদনের ভিত্তিতে নিজ খরচে ওই খননকৃত মাটি থেকে কিছু মাটি মসজিদ ফেলেন। ইউএনও মহোদয় সাইট ভিজিট করেছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর নাগবাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা আশরাফের নেতৃত্বে অঙ্গসহযোগী সংগঠনের কিছু নেতারা চাঁদা না পেয়ে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে দাবী করে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় এবং ভেকুতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গ্রামবাসীর সহায়তায় আগুন নেভানো হয়।
মসজিদ কমিটির আবু বক্কর সিদ্দিকী জানান, ডিসি অফিসে আবেদনের মাধ্যমে মসজিদে মাটি ফেলা হচ্ছে। যারা হামলা করে ভেকু পুড়িয়েছে তারা ভেবেছে মাটি বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তারা টাকা দাবী করে, না দেওয়ায় এ হামলায় চালায়।
জমি মালিকরা জানান, যারা খনন কাজ করতেছেন তারা আমাদের নিকট জমি ভাড়া ও লিজ নেওয়ার আবেদন করলে আমরা এলাকাবাসী কমিটি করে জমি লিজ দেই। যেখানে শর্ত থাকে স্থানীয় মসজিদ মাদ্রাসায় তারা মাটি সরবরাহের সুবিধা দেবেন। স্থানীয় বিএনপি আশরাফসহ বেশ কয়েকজন বিএনপি এমপি সাহেবের লোক পরিচয় দিয়ে সুবিধা দাবী করেন, না পেয়ে এক্সেভেটর ভাঙচুর চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেন।
খননকাজ কোম্পানীতে কর্মরত ব্যক্তিরা জানান, বিএনপির কিছু লোকজন ফোনে সহ বিভিন্নভাবে সরকারি এই প্রকল্পে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেওয়ায় ওই ব্যক্তিরা ভেকু ভাঙচুর করে আগুন দেয়। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।
মেরিন হাউজ এন্ড মতিন কনস্ট্রাকশন যৌথ কোম্পানীর প্রজেক্ট ম্যানেজার নাঈম জানান, ১৩ তারিখ রাতে কাজ শেষে প্রজেক্টের ভেকু বন্ধ করে ড্রাইভার বাসায় চলে যায়। নাগবাড়িসহ কালিহাতীর ১০-১৫ জন বিএনপি নেতা, দুষ্কৃতিকারী এক্সেভেটরের ওপরে হামলা করে। এ ঘটনায় এতে আমাদের ১২ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। এর আগে, এদের চাঁদার জন্য বিভিন্ন ফোন থেকে ও সরাসরি হুমকি ধামকি এসেছে।
প্রজেক্ট ম্যানেজার জাহিদ জানান, ভেকুতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও এ পর্যন্ত কোন পুলিশ প্রশাসন তদন্তে আসেনি।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আশরাফ জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা। মাটি কাটা নিয়ে গ্রুপিং রয়েছে। সরকারি প্রজেক্ট। সরকার ওয়ার্কসন দিলে সেটা যে পাবে সেই মাটি কাটবে। তারা মাটি বিক্রি করছিল কিছু লোকজন। প্রশাসন এসে অভিযান চালিয়ে মাটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বিষয়টি জেনে জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, খননকাজের মাটি বিক্রি হচ্ছে জেনে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি মাটি ওয়ার্কসন হবে। কেউ সরকারি মাটি বিক্রির এখতিয়ার রাখেন না।
মন্তব্য করুন