

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তির হাওয়া বইছে। সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রায় ৫৭ হাজার গ্রাহক বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিপেইড মিটারের মাসিক ‘মিটার চার্জ’ সম্পূর্ণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, তবে এটি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যশোরে বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার ৯৮৯টি প্রিপেইড মিটার চালু রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গেল ফেজ ৫৩ হাজার ৯৯৪টি এবং থ্রি-ফেজ ২ হাজার ৯৯৫টি। এসব মিটার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৯ লাখ ৮ হাজার টাকার বেশি ভাড়া আদায় করা হয়।
মিটার ভাড়া বাতিল হলে এই পুরো অর্থ সরাসরি গ্রাহকদের পকেটেই থেকে যাবে। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বেশি।
প্রিপেইড মিটার চালুর পর থেকেই গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল, একদিকে মিটার কিনতে হয়েছে, অন্যদিকে প্রতি মাসে ভাড়া দিতে হচ্ছে—যা অযৌক্তিক। এই দ্বৈত ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং বিভিন্ন সময় নাগরিক পর্যায়ে প্রতিবাদও হয়েছে।
শহরের বাসিন্দারা বলছেন, মাসে ৪০ বা ২৫০ টাকা ছোট অঙ্ক মনে হলেও বছর শেষে তা বড় অঙ্কে পরিণত হয়। তাই এই সিদ্ধান্তকে তারা সময়োপযোগী ও জনবান্ধব হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের কিলোওয়াট প্রতি ৪২ টাকা এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ৯০ টাকা হারে ‘ডিমান্ড চার্জ’ দিতে হয়। এই চার্জ প্রত্যাহার করা হলে গ্রাহকদের আর্থিক সাশ্রয় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোরে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা West Zone Power Distribution Company Limited (ওজোপাডিকো) জানিয়েছে, এখনো অফিসিয়াল নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মিটার চার্জ কেটে নেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হবে।
যশোরে প্রিপেইড মিটার ব্যবস্থাটি মূলত শহরকেন্দ্রিক হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের প্রভাবও শহরের গ্রাহকদের ওপর বেশি পড়বে। পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় এখনো প্রিপেইড মিটার চালু হয়নি।
মন্তব্য করুন