রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বস্তাসংকট, আলু নিয়ে দিশেহারা কৃষক 

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
বস্তাসংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা আলু নিতে পারছেন না
expand
বস্তাসংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা আলু নিতে পারছেন না

রাজশাহীতে আলুর বস্তার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র সংকটের কারণে বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বস্তার দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এর প্রভাব পড়েছে আলুর বাজারে। দাম কমলেও ক্রেতা মিলছে না, ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছর যে বস্তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, চলতি মৌসুমে সেই বস্তার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকায়। এতে আলু সংরক্ষণ ও পরিবহনে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বস্তার অভাবে আলু কেনাবেচা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। গত বুধবার যে আলু প্রতি কেজি ১৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বৃহস্পতিবার সেই আলুর দাম নেমে এসেছে ১৩ টাকায়। তবুও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক চাষি বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে আলুর স্তূপ করে রাখছেন, যা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার চোরখৈর গ্রামের চাষি আতাউর রহমান বলেন, তিনি প্রায় চার বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বস্তাসংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা আলু নিতে পারছেন না। ফলে খোলা জায়গায় আলু সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। একই উপজেলার ব্যবসায়ী রানা চৌধুরী জানান, মৌসুমের শুরুতে ১২০ টাকায় বস্তা কিনলেও বর্তমানে তা ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে। এতে আলু কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মুন্ডুমালা পৌর এলাকার কৃষক আবদুল আউয়াল বলেন, তাঁর ৬০০ বস্তা আলুর মধ্যে ৩০০ বস্তা হিমাগারে তুলতে পারলেও বাকি আলুর জন্য বস্তা পাচ্ছেন না। “বস্তার দাম ১৯৫ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এভাবে চললে আমরা শেষ হয়ে যাব,” বলেন তিনি।

আরেক কৃষক শামসুজ্জামান জানান, ১৬ টাকা দরে আলু বিক্রির চুক্তি থাকলেও পরদিন ব্যবসায়ী ১৩ টাকার বেশি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি অগ্রিম টাকাও ফেরত নেননি।

চাষিদের অভিযোগ, হিমাগার মালিকদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বস্তার দাম বাড়াচ্ছেন। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। রহমান কোল্ডস্টোরেজের মহাব্যবস্থাপক আবদুল হালিম বলেন, গত বছর বস্তা বিক্রি না হওয়ায় এ বছর উৎপাদন কম হয়েছে, যার ফলে সংকট তৈরি হয়েছে।

কোল্ডস্টোরেজ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বস্তার উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এছাড়া ছুটির কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারখানা পুরোপুরি চালু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, এ ধরনের সংকটের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। জানানো হলেও সরাসরি সমাধানের সুযোগ নেই, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বস্তাসংকট নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন