শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২৭ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহুবলে সিলিকা বালু লুটের মহোৎসব, এলাকাবাসীর ক্ষোভ 

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
বাহুবলে অবৈধভাবে উত্তোলিত সিলিকা বালু
expand
বাহুবলে অবৈধভাবে উত্তোলিত সিলিকা বালু

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার হরিতলা এলাকায় অবৈধভাবে পাহাড় কেটে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্যে দিন-রাত বালু উত্তোলন ও পাচার চললেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক মাস ধরে হরিতলা এলাকায় নজিরবিহীনভাবে সিলিকা বালু উত্তোলন চলছে। রাতভর শত শত ট্রাক্টর দিয়ে বালু নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে পরে ডাম্প ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলমান এ কার্যক্রমকে ‘হরিলুট’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন সচেতন মহল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে বালু উত্তোলনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। তাদের ভাষ্য, বিগত কয়েক বছরেও এত ব্যাপকভাবে বালু লুট হয়নি। এখন প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী কোনো প্রভাব ফেলছে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে শুরু হয় বালু উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আন্ডারগ্রাউন্ডভাবে যুক্ত রয়েছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

এদিকে, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে হরিতলা এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গেছে।

অন্যদিকে, এলাকাবাসীকে ‘ম্যানেজ’ করতে তৎপরতা চালাচ্ছে বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত চক্র এমন অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, ‘হরিতলা এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তবে সচেতন মহলের দাবি, মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে নয় স্থায়ীভাবে এ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি অব্যাহত থাকবে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন