বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মায় বাসডুবি: ৮ যাত্রীর পরিচয় মিলেছে

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট
expand
দৌলতদিয়া ফেরিঘাট

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর যাত্রীবাহী বাসে কুমারখালী থেকে ওঠা ৮ যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে। যাত্রীবাহী বাসটির সন্ধান পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। পানির অন্তত ৩০ ফুট গভীরে গিয়ে উদ্ধারকারী দল বাসটির অবস্থান শনাক্ত করেছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। জানা গেছে, বাসটি একটি ফেরি পন্টুনে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং নদীতে পড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্তত ১৭ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’-র সহযোগিতায় বাসটি তোলার চেষ্টা চলছে। দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানান, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।

পরিচয় পাওয়া যাত্রীরা হলেন, গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) ও সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) এবং আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। তারা কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের ছুটি শেষে পরিবারসহ ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় ফিরছিলেন।

আরেকটি পরিবার হলেন- মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস)। তারা ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।

নুরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে জানানো মতে, “বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকা যাতায়াত করি। ছুটি শেষে সৌহার্দ্য পরিবহনে করে ঢাকা যাচ্ছিলাম। পথে ফেরিতে ওঠার সময় গাড়িটি স্লিপ করেছিল। তখন আমি ও বড় মেয়ে নওয়ারা বাস থেকে নেমে গিয়েছি। তবে স্ত্রী আয়েশা ও ছোট মেয়ে আরশান বাসে ছিলেন। পরে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত স্ত্রী ও ছোট মেয়ের সন্ধান পাইনি।”

গিয়াস উদ্দিন রিপনও জানিয়েছেন, “বাসের সঙ্গে আমার স্ত্রী লিটা ও মেয়ে আয়েশা পানিতে ডুবে যায়। পরে স্ত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করলেও মেয়েকে এখনও পাইনি।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে ৫০–৫৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই ৫–৭ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে বাসে থাকা অন্যান্য যাত্রীদের বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন