

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঈদের টানা ১০ দিনের ছুটিতে পাহাড়ি জনপদ রাঙ্গামাটির সাজেক উপত্যকায় পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ঈদকে কেন্দ্র করে রিসোর্ট ও করটেজগুলো ছিলো শতভাগ আগাম বুকিং।
সাজেক ভ্যালিতে ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন থেকে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। গত চার দিনে প্রায় ১১ হাজার পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছে। যা গত ২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটক প্রবেশ বলে নিশ্চিত করেছেন সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতি।
দীর্ঘ ছুটি ও পাহাড়ের অনুকূল পরিবেশের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে।
আগামী ২৮ মার্চ পর্যন্ত রিসোর্ট, কটেজ ও হোটেলগুলো আগাম বুকিং রয়েছে। ফলে অনেক পর্যটক রুম না পেয়ে বাহিরে কিংবা খোলা স্থানে সময় কাটাচ্ছেন। ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে শতশত দর্শনার্থীকে।
বগুড়া থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সোহেল এনপিবি নিউজকে জানান, "আমরা রুম বুকিং ছাড়া সাজেকে এসেছি, বুঝে উঠতে পারিনি সাজেক এতো মানুষের উপস্থিতি হবে। ১৫-২০ জনের একটি টিম ২৫-২৬ ঘন্টা মোটরসাইকেলে জার্নি করে সাজেক প্রবেশ করেছি। এখানে এসে রুম পাচ্ছি না, গাছের নিচে বসে আছি।
একই কথা বললেন আরেক দর্শনার্থী দেলোয়ার। তিনি জানান, "রুম না পাওয়ার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছি। হয়তো ঈদের জন্য পর্যটক প্রবেশ বেড়েছে। তবে সাজেক আরো রিসোর্ট ও কটেজ বাড়ানো উচিৎ।
ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকের এই ঢল তাদের ব্যবসায় নতুন গতি এনেছে। পরিবহন, খাবারের দোকান ও স্থানীয় বাজারগুলোতেও বেড়েছে বেচাকেনা। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলাতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
খাগড়াছড়ি টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশাত রায় জানান, "পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সেবা চালু রেখেছে।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ ওনার্স এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, "সাজেক ভ্যালিতে সবগুলো রিসোর্ট ও কটেজ ২২ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। ভোগান্তি এড়াতে এসময়ে বুকিং ছাড়া প্রবেশে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
তবে জ্বালানি তেল সংকটের ফলে অনেক বাইকারদের সাজেক না গিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে। তেল সংকট থাকায় পরিবহনেও ভোগান্তি এসেছে। পরিবহন জ্বালানি না থাকার ফলে পর্যটক পরিবহন করতে পারছে না চালকরা।
চাঁদের গাড়ি চালক পলাশ জানান, "তেল সংকটের ফলে গাড়ি নিয়ে সাজেক যেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে করে আমরা অনেক অগ্রীম গাড়ি ভাড়া বুকিং বাতিল করতে হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেল সংকটের ফলে আগামীকাল থেকে সাজেক পানি সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
মন্তব্য করুন