

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঠাকুরগাঁও বাসস্ট্যান্ডের পাশে শুক্রবার সকালে তিনজন সাপুড়ে খেল দেখাচ্ছিলেন। কাঠের বাক্স খুলে বের করা হচ্ছিল গোখরো, কেউটে, চন্দ্রবোড়া, দাঁড়াশ আর অজগর।
চারপাশে কিছু লোক দাঁড়ালেও ভিড় আগের মতো নেই। একসময় এই খেলা আর ভেষজ ওষুধের কদর ছিল; এখন তেমনটি আর দেখা যায় না।
দিনাজপুর পৌর এলাকার শেখপুরা মহল্লার ৭৫ বছর বয়সী মো. আইনুদ্দিনের জীবন কাটছে এভাবেই। তিনি জানান, “চার দশক ধরে সাপের খেলা দেখাচ্ছি। সাপ বিক্রি আর খেলার আয়ে দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে মানুষ করেছি। আগে সব সময় ভিড় থাকত, এখন তেমন আর আসে না।”
তিনি বলেন, খেলার জন্য সাপ কেনা হয় ঢাকার সাভারের বাজার থেকে—যার অধিকাংশই আসে ভারত থেকে। একটি সাপের দাম পড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আইনুদ্দিন জানিয়েছেন, খেলার সময় একাধিকবার সাপে দংশন করেছে তাকে। “তিন–চারবার কামড় খেয়েছি। প্রতিবারই হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়ে সুস্থ হয়েছি,” বললেন তিনি।
আইনুদ্দিনের পাশে বসা তাঁর গুরু নুর ইসলাম জানালেন, “আগে গাছগাছালির ওষুধ বিক্রি করেই সংসার চলত। এখন আর কেউ কেনে না। দু-তিন মাসের মধ্যে খেলা ছেড়ে ফলের দোকান দেওয়ার কথা ভাবছি।”
দলের আরেক সদস্য হবিবুর রহমান চার দশক ধরে আছেন এই পেশায়। তার ভাষায়, “শুধু খেলা দিয়ে আর সংসার চলে না। এখন নতুন পথ খুঁজতে হবে।”
এই সাপুড়েরা বলেন, বিষদাঁত উপড়ে ফেললেও ঝুঁকি থাকে, কারণ প্রতি মাসেই নতুন দাঁত গজায়। ফলে খেলার সময় প্রায়ই সাপে দংশন হয়। নিজেদের বানানো গাছগাছালির ওষুধে কোনো কাজ হয়নি বলেও তারা স্বীকার করেন।
আইনুদ্দিন খোলাখুলি বলেন, “কাউকে সাপে কামড়ালে প্রথমেই হাসপাতালের ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত। ওঝা বা ঝাড়ফুঁকে সময় নষ্ট করলে রোগীর প্রাণহানি হতে পারে।”
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “যাঁরা প্রতিদিন সাপ নিয়ে খেলা করেন, তারাও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে ছুটে আসেন। তাঁদের অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে—সাপে কামড়ালে ওঝা নয়, ভরসা একটাই—ভ্যাকসিন।”
মন্তব্য করুন
