

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাট জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশনেই পেট্রোল ও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মোটরসাইকেল চালকরা ২০০ টাকার বেশি তেল পাচ্ছেন না। তাও সব স্টেশনে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকে অনেক স্টেশন, নির্দিষ্ট সময়েই সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক রোক্সানা বেগম জানান, তিনি তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। কয়েকদিন ধরে পাম্পে ঘুরেও তেল না পেয়ে শেষে উপজেলা কৃষি অফিসের শরণাপন্ন হন। কৃষি কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা সুপারিশপত্র নিয়ে তিনি পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করেন।
তিনি বলেন, তেল না পাওয়ায় ধানের জমিতে পানি দিতে পারছিলাম না। দুইদিন পানির অভাবে ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরে কৃষি অফিস থেকে স্লিপ এনে তেল নিতে পেরেছি।
বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম বলেন, পেশাগত কারণে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। দিনে ১০০-১৫০ কিলোমিটার গাড়ি চালাতে হয়। কিন্তু এখন দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ২০০ টাকার তেল নিতে হচ্ছে। এতে কাজের সময় নষ্ট হচ্ছে, বিক্রির লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ করতে পারছি না।
ঔষধ কোম্পানির কর্মী তানভীর ইসলাম বলেন, খুলনা থেকে আসতে আসতে প্রায় ১০টি পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। আমাদের সারাক্ষণ মাঠে থাকতে হয়। যেকোনো সময় বাইকের তেল শেষ হয়ে যাবে এই দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। সংকটের আসল কারণ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
সদর উপজেলার দশানী এলাকার শেখ সোহাগ বলেন, গাড়িতে তেল নেই, তাই ট্যাংকি খুলে নিয়ে পাম্পে এসেছি। রাতে গাড়ি ঠেলে বাসায় নিয়েছি। এখন সাইকেলে করে তেল আনতে হচ্ছে।
জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই চিত্র দেখা গেছে। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া হঠাৎ করে অনেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল নেওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
শহরের খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মুর্শিদ কুলি খান বলেন, ডিপো থেকে কয়েকদিন ধরে চাহিদার চেয়ে কম তেল পাচ্ছি। তবে যে পরিমাণ দেওয়া হচ্ছে, তা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করছি। এখানে কোনো মজুদ বা অনিয়ম নেই।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেলের সংকটের জন্য সাধারণ মানুষও কিছুটা দায়ী। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তদারকি শুরু হয়েছে। কেউ অবৈধভাবে তেল মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন