

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ২নং চৌমুহনী ইউনিয়নের জামালপুর বাঘদাছড়া এলাকায় নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সেতু প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি এখন পর্যন্ত কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, মানুষ বা গবাদিপশুর চলাচলেরও উপযোগী করা হয়নি। ফলে উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নির্মিত সেতুটি এখন এলাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরষপুর রেলওয়ের ৩২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এই সংযোগ সেতুর দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হলেও রহস্যজনক কারণে ব্রিজটির সঙ্গে সড়ক সংযোগ দেওয়া হয়নি। ফলে হরষপুর থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ থাকলেও এলাকাবাসীকে বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু পথচারী ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেলসহ ব্রিজের নিচ দিয়ে পারাপার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাছাড়া এতে প্রতিদিন সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী মানুষ। কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তাদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নালার পানি বৃদ্ধি পেলে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেল ব্রিজের ওপর কাঠের তক্তা পেতে পারাপার করেন। প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ এই রেল ব্রিজ পার হতে একজন সুস্থ মানুষেরও ৮ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে। এ সময় হঠাৎ ট্রেন চলাচল শুরু হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হরষপুর থেকে কাশিমনগর পর্যন্ত আধা-পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সেতুটি চালু না করায় তারা পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাদের প্রশ্ন—ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও কেন তা এখনো ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ব্রিজটি মেরামত করে দ্রুত চালু করার জন্য আমরা কাজ করছি।’
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ব্রিজটি চালু করতে হবে। তাদের প্রত্যাশা, অতি দ্রুত জামালপুরের বাঘদাছড়া এলাকার এই সংযোগ সেতু চালু করে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন