

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনার পর একে একে নিভে গেছে ১২টি প্রাণ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে—যাদের কেউ হাসপাতালে, কেউবা বাড়িতে ফিরেও লড়ছেন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার সঙ্গে।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ সম্মানের সঙ্গে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দিতে ১১টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেছে কুমিল্লা মহানগর জামায়াত। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শোকাহত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা।
কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, এমন দুর্ঘটনায় শুধু সংখ্যা নয়, প্রতিটি লাশের পেছনে একটি পরিবার ভেঙে পড়ে। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত তাদের এই কঠিন সময়ে কিছুটা সহায়তা দিতে।
স্বজন হারানোর বেদনায় অনেক পরিবারই এখন দিশেহারা। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য, কেউবা একমাত্র সন্তানকে। হাসপাতালের করিডোরে অপেক্ষমাণ স্বজনদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে আনা আহতদের মধ্যে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন, তবে কয়েকজন এখনো চিকিৎসাধীন।
এদিকে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের একটি দল।
এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে রেলক্রসিং নিরাপত্তার প্রশ্ন। কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রেলক্রসিংয়ে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরি। দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
শনিবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে তিনটার দিকে ঘটে এই দুর্ঘটনা। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ধাক্কা দেয় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসকে। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে যায়।
রাত পেরিয়ে সকাল হলে দুর্ঘটনাস্থলে পড়ে থাকে ভাঙাচোরা বাসের অংশ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যাত্রীদের জিনিসপত্র—আর অগণিত প্রশ্ন। এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে স্বজনরা শুধু জানতে চান, এমন মৃত্যু কি এড়ানো যেত না?
মন্তব্য করুন