

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিদেশি জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন অবস্থান জানিয়েছে ইরান। দেশটি বলছে, নির্দিষ্ট শর্ত মানা সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থায় (আইএমও) ইরানের প্রতিনিধি আলী মুসাভি এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হলে জাহাজগুলোকে আগে থেকে ইরান সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মুসাভি বলেন, আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পালনের পাশাপাশি ‘ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অধিকারের’ প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা বাঞ্ছনীয়। তেহরানের এই নমনীয় অবস্থান বিশ্বজুড়ে চলমান ভয়াবহ জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার এবং নাবিকদের সুরক্ষায় ইরান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে যেসব দেশকে ইরান ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করে, তাদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে তেহরান। মুসাভির দাবি, এই দুই দেশের কর্মকাণ্ডের কারণে নৌ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরান বলছে, তারা মূলত নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে বহু তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ আটকে আছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে পড়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শর্তসাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাবটি আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর একটি কৌশল হতে পারে।
ইরান এ পদক্ষেপের মাধ্যমে বোঝাতে চাইছে, তারা বৈশ্বিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে চায় না। বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ইরানের দাবি, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চললে জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। এখন দেখার বিষয়, পশ্চিমা দেশগুলো এই শর্ত মেনে জাহাজ পরিচালনা করে কি না। সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা।
মন্তব্য করুন
