

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানুষের বৈচিত্র্যময় কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে উৎসব আসে স্বস্তির বার্তা নিয়ে। আর মুসলিম উম্মাহর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আয়োজন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে সেই স্বস্তি যেন রূপ নেয় আনন্দের মিলনমেলায়।
তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেস ওয়ে ধরে প্রিয়জনের সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে ছুটছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু এ যাত্রায় অস্বস্তি বাড়িয়েছে বাড়তি ভাড়া।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর এলাকায় গিয়ে ঢাকা-শিবচর গামী যাত্রীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতপথ ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে। এই মহাসড়ক ধরে ২১ জেলার যাত্রীরা ১৭ মার্চ থেকে ঘরমুখো যাত্রা শুরু করেছেন।
স্বস্তির বিষয় হলো, সড়কে বড় কোনো যানজট বা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি; যাত্রীরা তুলনামূলক নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
তবে স্বস্তির এই যাত্রায় ভিন্ন এক অস্বস্তির নাম বাড়তি ভাড়া। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ অর্থ গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ঢাকা থেকে শিবচরের পাঁচ্চর পর্যন্ত যেখানে ভাড়া ১৭০ টাকা, সেখানে বর্তমানে আদায় করা হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। এতে করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছে বাড়তি চাপের কারণ।
যাত্রীদের অভিযোগ, উৎসবকে কেন্দ্র করে এমন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ দিয়ে যাত্রা করলেও মনে জমছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
ঢাকার গুলিস্তান থেকে পাঁচ্চরগামী ‘প্রচেষ্টা পরিবহন’-এর যাত্রী মো. তুষার আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন," প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ১৭০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন।
অতিরিক্ত ভাড়া দিলেও তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব যাত্রীকে বসার সুযোগ না দিয়ে দাঁড়িয়ে আনা হয়েছে, তাদের সংখ্যা বসার যাত্রীর চেয়ে প্রায় তিনগুণ, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও যাত্রীদের জন্য ভীষণ পীড়াদায়ক। "
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা আরেক যাত্রী আসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিবারের সদস্যরা গ্রামেই থাকেন।
তাই বাধ্য হয়েই ১৭০ টাকার ভাড়ার পরিবর্তে ৪০০ টাকা দিয়ে যাত্রা করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি থাকলে এমন নৈরাজ্য হয়তো ঠেকানো সম্ভব হতো।”
অন্যদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের যুক্তি, ঈদের সময় যাত্রী চলাচল একমুখী হওয়ায় ফিরতি পথে যানবাহন প্রায় ফাঁকা থাকে। ফলে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে তারা অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন যাত্রীরা। তাদের দাবি, উৎসবকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে মহাসড়কে গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন