

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে বন উজাড় করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। এর জের ধরে সোমবার উপজেলার বাইশারী ১নং ওয়ার্ডের কাগজিখোলা এলাকায় পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে ওই ইটভাটাকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন ওই ইটভাটায় দীর্ঘ দিন ধরে কয়লার পরিবর্তে বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং দৈনিক সাঙ্গুর প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালীন ইটভাটার মালিক নজরুল ইসলাম দাবি করেন, তার একাধিক ব্রিকফিল্ড রয়েছে এবং তিনি সেখানে কয়লা ব্যবহার করছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়লা ক্রয়ের রিসিভ কপি বা কোনো বৈধ নথিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। সরেজমিনে দেখা যায়, কয়লার আড়ালে বনের কাঠ ব্যবহার করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হচ্ছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজাহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়ায় নজরুল ইসলামের ইটভাটাকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বান্দরবান জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, “অভিযুক্ত ইটভাটাটির কোনো বৈধ নথিপত্র নেই। তারা কয়লার মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বন উজাড় করছে। জরিমানার পাশাপাশি তাদের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
উল্লেখ্য, পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ ইটভাটা ও বন উজাড় নিয়ে দৈনিক সাঙ্গুতে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত এই অবৈধ ইটভাটাটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন