

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা বৈধভাবে মাটি কাটার সুযোগ তৈরির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট করেছেন মাটিকাটা শ্রমিক ও মাটি পরিবহন শ্রমিকেরা। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন তাঁরা। ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে ‘ট্রাক্টর পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ, দেবীদ্বার, কুমিল্লা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন।
শ্রমিকদের দাবি বিক্ষোভ শেষে উপজেলা সদরের নিউমার্কেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মাটি ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের পক্ষে আবদুর খালেক বলেন, গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক, রাজমিস্ত্রি ও জোগালি বেকার হয়ে পড়েছেন। দুই শতাধিক ট্রাক্টর, ড্রেজার ও ভেকু বন্ধ রয়েছে। উপজেলার ২৩টি ইটভাটা বন্ধ হওয়ার পথে।
তিনি দাবি করেন, আবাসন নির্মাণ, সরকারি-বেসরকারি ভবন নির্মাণ এবং সড়ক উন্নয়নকাজও এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শ্রমিকেরা বৈধ উপায়ে মাটি কাটা ও ব্যবসার সুযোগ চান। দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি অনেকটাই অবৈধ কাজের বৈধতা চাওয়ার মতো মনে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী ও চরের মাটি–বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।
এনিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, গোমতী নদী থেকে কেউ যেন এক কোদাল মাটিও কাটতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশ ও প্রশাসনকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে নদী ও চরের মাটি কাটার ফলে গোমতী নদীর পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আবাদি জমির উর্বরতা কমেছে। ট্রাক্টরের ধুলাবালুতে বাসাবাড়ির ক্ষতি হচ্ছে এবং শিশু-বৃদ্ধসহ মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর নদীর মাটি কাটা বন্ধ হয়েছে। এখন একটি চক্র শ্রমিকদের সামনে রেখে আবারও অবৈধ কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা সদরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে গোমতীকে লুট করেছে, তারাই এখন শ্রমিকদের ব্যবহার করে অবৈধ কার্যক্রম বৈধ করার চেষ্টা করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
মন্তব্য করুন
