রবিবার
০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে প্রবাসীর বাড়ি থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামের ইতালী প্রবাসী নুর ইসলামের বসতঘর থেকে তার মা পারুল বেগম (৬৫) এর মরদেহ উদ্ধারের ১২ ঘন্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগম (২৭) ও তার পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে মতলব উত্তর থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হোসাইন সানীব। এ সময় থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মন্ডলসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু হাপানিয়া গ্রামের বেপারী বাড়ির জাহাঙ্গীর বেপারীর ছেলে।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পারুল বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রবাসীর স্ত্রী হালিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। প্রকৃত ঘটনা প্রথমে হালিমা অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে স্বীকার করে।

হালিমা পুলিশকে জানায়, তার সাথে প্রতিবেশি অবিবাহিত যুবক মিঠুর সাথে আট মাস পূর্বে পরকীয়া সম্পর্ক হয়। সেই সূত্র ধরে মিঠু তাদের বাড়িতে আসা যাওয়া এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে। এর মধ্যে প্রবাসী নুর ইসলামের প্রথম স্ত্রীর সন্তান সোহানের সাথে অনলাইনে ব্যবসা করবে বলে মিঠু ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগের এক পর্যায় সোহান মিঠুর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

উপায় না পেয়ে মিঠু তার টাকা উদ্ধার করতে সোহানের দাদী পারুল বেগমের পরনে থাকা স্বর্নের কানের দুলের নজরে আসে। মিঠু পরিকল্পনা করে হালিমার সহযোগিতা নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ওই ঘরে আসে এবং পারুল বেগমকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে অচেতন করে। কিন্তু কানের দুল খোলার সময় তিনি টের পাওয়ায় পরবর্তীতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং ডাকাতি নাটক সাজাতে হালিমার হাত পা বেঁধে চলে যায়।

পরদিন দুপুরে প্রতিবেশিরা এই ঘটনার টের পায় এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়।

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হোসাইন সানীব বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মৃত হালিমা বেগমের মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X