

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই একাধিক ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এসব ভাটা চালু থাকলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সদর, শিবগঞ্জ গোমস্তাপুর ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক এলাকা ও ফসলি জমির কাছাকাছি ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ছাই আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে।
বিশেষ করে আমবাগান অধ্যুষিত এ জেলায় ধোঁয়ার কারণে ফলন ও গাছের স্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
কৃষকরা জানান, ইটভাটার ধোঁয়ায় গাছের পাতা ঝলসে যাচ্ছে। জমির উর্বরতাও কমে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদ করলে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলার আমচাষি খলিল মিয়া বলেন, ইটভাটার ধোঁয়ায় আমগাছের মুকুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে যে পরিমাণ আম পেতাম, এখন তার অর্ধেকও পাই না। প্রতি মৌসুমে লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
নাচোল উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের ধান চাষি আব্দুল কাদের বলেন, ভাটার ছাই জমির ওপর পড়ে মাটির গুণাগুণ নষ্ট করছে। সেচ দিলেও আগের মতো ফলন হয় না। আমরা দিন দিন লোকসানে পড়ছি।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও কৃষিজমির নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। এসব শর্ত উপেক্ষা করে ভাটা পরিচালনা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে ইটভাটা চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন? প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ভাটা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন।
পরিবেশ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবু সাইদ জানান, যেসব ইটভাটা লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন
