শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী-সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৮ এএম
সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন
expand
সন্তানকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রী ও স্কুলপড়ুয়া সন্তানকে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাহিদ শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এমনকি তিনি নিজের সন্তানের বই-খাতাও পুড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাহিদ শেখ একই গ্রামের মো. আকুব্বর শেখের ছেলে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সাহিদ শেখ এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে তিনি একাধিকবার মাদকসহ আটক হয়ে কারাভোগ করেছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। বর্তমানে তার মাদক ব্যবসা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, সাহিদের ছেলে আশিক শেখ এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বাবার মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ায় সে বাবাকে এ পথ থেকে সরে আসতে চাপ দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাহিদ শেখ তার স্ত্রী ও ছেলেকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করেন। এ সময় আশিকের পাঠ্যবই ও খাতা পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ঘটনার পর আশিক ও তার মা পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ঘটনায় আশিক তার বাবার বিরুদ্ধে সালথা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্তের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত। সংসারের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। তার মাদক ব্যবসায় বাধা দিলেই তিনি আমাকে ও ছেলেকে মারধর করেন। গত বুধবার বাড়িতে লোকজন নিয়ে মাদক সেবনের সময় বাধা দিলে আমাদের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় আমাদের ছোট সন্তান জুনায়েদকে আটকে রেখে আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। আমি দ্রুত আমার ছোট ছেলেকে ফেরত চাই এবং ঘটনার বিচার চাই।”

এ বিষয়ে সালথা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মারুফ হাসান রাসেল বলেন, “স্ত্রী-সন্তানকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X