মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের রেশনের চিনি খোলা বাজারে বিক্রি, তদন্তের আশ্বাস

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৩ এএম
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস থেকে নেওয়ার পর মিলের পাশেই রোড বাজারে ‘মেসার্স টি এস ট্রেডারস’ নামে দোকানে বিক্রি করা হয়।
expand
ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস থেকে নেওয়ার পর মিলের পাশেই রোড বাজারে ‘মেসার্স টি এস ট্রেডারস’ নামে দোকানে বিক্রি করা হয়।

পুলিশ সদস্যদের জন্য সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যের রেশনের চিনি খোলা বাজারে বিক্রির কোনো নিয়ম না থাকলেও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তোলিত চিনি ঠাকুরগাঁওয়ে অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এই কাজ করে আসছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস্ এর প্রশাসন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিল থেকে ১২৫ টাকা কেজি দরে ৪৪ মেট্রিক টন চিনি বিক্রি করা হয়। এর মধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৫ মেট্রিক টন, রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের ১১ মেট্রিক টন এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর ৬ মেট্রিক টন চিনি নেয়। এছাড়া ১২ মেট্রিক টন শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় এবং বাকি অংশ সংরক্ষিত খাতে দেখানো হয়েছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মিলের গুদাম থেকে ৫ মেট্রিক টনের তিনটি গাড়ি বের হয়। এর মধ্যে একটি ট্রাক রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও বাকি দুইটি পাওয়ার টিলার মিল গেটের পাশের রোড বাজার এলাকায় রেললাইনের পাশে অবস্থিত ‘মেসার্স টি এস ট্রেডারস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সামনে গিয়ে থামে।

গোপন সূত্রের দাবি, মিলের ক্যাশিয়ার মো. শামীম রহমানের মালিকানাধীন ওই প্রতিষ্ঠান বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে ১০ মেট্রিক টন চিনি কিনে নেয়।

এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে দোকান মালিক পুলিশের বরাদ্দপত্র (ডিও) দেখানোর কথা বলেন এবং রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ফোনে ডেকে আনেন। পরে ঘটনাস্থলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মেস ম্যানেজার এসআই (সশস্ত্র) মমিনুল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত হন। তারা জানান, রেশনের চিনি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মেসে অবস্থানরত প্রায় ৩০০ সদস্যের জন্য মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কেনা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের রেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনপিবিকে বলেন, তারা ১৫ মেট্রিক টন চিনি উত্তোলন করেছেন, যার মধ্যে ৭ মেট্রিক টন বিক্রি করা হয়েছে। মেস ম্যানেজার প্রতি মাসে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ কেজি চিনি বরাদ্দ পান। বর্তমানে মেসে প্রায় ৬ হাজার কেজি চিনি মজুত রয়েছে, যা কয়েক দিনের মধ্যে সমন্বয় হয়ে যাবে। মেস পরিচালনার স্বার্থেই ওই অংশের চিনি বিক্রি করা হয়েছে বলে শিকার করেন তিনি।

সরকারি চিনি খোলা বাজারে বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি জিনিস বাইরে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। তবে এই চিনি টেন্ডারে ক্রয় করা হয়নি এবং বিক্রির ক্ষেত্রে টেন্ডারের প্রয়োজন হয় না। মেসে অবস্থানরত সদস্যদের অংশের চিনি থেকেই বিক্রি করা হয়েছে, বাইরের কারও বরাদ্দের চিনি বিক্রি হয়নি।

মেস ম্যানেজার এসআই (সশস্ত্র) মমিনুল ইসলাম এনপিবিকে বলেন, মেসের জন্য যে চিনি বরাদ্দ হয় তা বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ফোর্সের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ডিও ইস্যু হওয়ার পর চেক জমা দিয়ে ওসি (রেশন) এর মাধ্যমে চিনি উত্তোলন করা হয়। তিনি মেস পরিচালনা করেন বলে প্রয়োজন অনুযায়ী চিনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরোও বলেন, এই চিনি বিক্রির অর্থ দিয়েই মাছ-মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী কেনা হয়। যেখানে কিছুটা বেশি দাম পাওয়া যায়, সেখানেই বিক্রি করা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। দোকান মালিক মো. শামীম রহমান চিনি নিয়েছেন শিকার করে তিনি বলেন, তার সুবিধা হলে রাখবেন, না হলে ফেরত দেবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাই মেসার্স টি এস ট্রেডারসের মালিক ও সুগার মিলের ক্যাশিয়ার মো. শামীম রহমান এনপিবিকে বলেন, শুধু পুলিশ নয়, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও তাদের রেশনের পণ্য বিক্রি করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমি পুলিশের বরাদ্দের চিনি ক্রয় করেছি। আগেই একটি সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত দামে চিনি নেওয়া হয়েছে। তিনি না কিনলে অন্য দোকানেও বিক্রি করা যেত বলে জানান। তবে কত দামে এই কেনাবেচা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জবাব দেননি। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আর ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের প্রশাসন বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক সুভাষ চন্দ্র সিংহ এনপিবিকে বলেন, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ১৫ মেট্রিক টন চিনি উত্তোলন করা হয়েছে। র‍্যাব ও রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারও চিনি নিয়েছে। পরবর্তীতে তারা ওই চিনি কীভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষের বলার কিছু নেই।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে এনপিবিকে বলেন, রেশনের চিনি খোলা বাজারে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। কেউ এমন কাজ করে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X