

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সিলেটে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের দাবিকে ঘিরে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে ভিন্নমত।
সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী প্রকাশ্যে এ রিকশা চলাচল বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী চালক–মালিকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ নিয়ে সংগঠনের ভেতর চলছে গুঞ্জন।
গত কয়েক দিন ধরে সিলেটে ব্যাটারি রিকশা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এতদিন প্রশাসনের অভিযান নিয়ে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাত লক্ষ্য করা যায়নি। তবে সম্প্রতি আরিফুল হক চৌধুরী জেলা বাস–মিনিবাস–কোচ ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এই রিকশা বন্ধের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেন।
২৫ সেপ্টেম্বর ব্যাটারি রিকশা চালু রাখার দাবিতে চালক ও মালিকদের আন্দোলন নগরজুড়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। হামলা, গাড়ি ভাঙচুরসহ বিশৃঙ্খলার পর প্রশাসন ঘোষণা দেয়, সিলেট শহরে আর ব্যাটারি রিকশা চলবে না।
এই পরিস্থিতিতে একই দিন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ব্যাটারি রিকশা শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন। বাসদের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘নগর বিএনপি আপনাদের যৌক্তিক দাবির পাশে আছে।’ তাঁর ওই মন্তব্যের পর প্রশাসন ব্যাটারি রিকশা আন্দোলনে মদদের অভিযোগে বাসদের দুই নেতা আবু জাফর ও প্রণবজ্যোতি পালকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর থেকে নগর বিএনপির ভেতরে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ঠিক এ সময় ব্যক্তিগত কাজে ইমদাদ হোসেন চৌধুরী যুক্তরাজ্যে চলে যান বলে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী গণমাধ্যমকে জানান। তাঁর অনুপস্থিতিতে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব। দলে কানাঘুষা চলছে, গ্রেপ্তারের পরপরই ইমদাদের বিদেশযাত্রা কি কাকতালীয় নাকি অন্য কিছু।
পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী সম্প্রতি ‘ব্যাটারি রিকশা: নগর জীবনের অদৃশ্য মৃত্যুঘণ্টা’ শিরোনামে একটি লেখা পাঠান গণমাধ্যমে। সেখানে তিনি জানান, ব্যাটারি রিকশায় মানসম্মত ব্রেক, সিগন্যাল ও ফিটনেস না থাকায় শিশু, বৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী কেউই সুরক্ষিত নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে শোকে ফেলে দেয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সিলেট শহরের ৩ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহার থাকলেও ৪০ হাজার ব্যাটারি রিকশা প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ করছে। একটি রিকশা চার্জে গড়ে ৪৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে, যা দিয়ে ৫০ হাজার পরিবার আলোর ব্যবস্থা করতে পারত।
মানবিক আবেদনে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু পুলিশ কমিশনার নই, একজন বাবা ও নাগরিক হিসেবেও বলছি—সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালোবাসলে ব্যাটারি রিকশার বিরুদ্ধে দাঁড়ান।’
কমিশনারের ওই লেখার পর রবিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ করেন। বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ব্যাটারি রিকশা বন্ধের দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা শহীদ মিনারের উদ্দেশে পদযাত্রা করেন।
আরিফুল হক চৌধুরী সেখানে বলেন, ‘এই শহর আমাদের। সুন্দর শহর গড়তে ব্যাটারি ছাড়া রিকশা চালানো সম্ভব। ব্যাটারি বন্ধ হলে লোডশেডিং ও দুর্ঘটনা কমবে। পুলিশ ও প্রশাসনের উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।’
গণমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে আমরা সবাই একমত।’
অন্যদিকে নগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য নগর বিএনপির অবস্থান নয়।’ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদীও ব্যাটারি রিকশার উৎপাদন থেকে চালকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানান।
মন্তব্য করুন
