মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশাল-৫: দলীয় রাজনীতির শক্ত সমীকরণে ঝুলছে ভোটের ভাগ্য

বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসন বরাবরের মতোই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যারোমিটার হিসেবে বিবেচিত। দক্ষিণাঞ্চলের এই আসনে নির্বাচন মানেই শুধু প্রার্থী নয়, বরং দলীয় শক্তি, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জাতীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন।

এই আসনের রাজনীতিতে একটি বিষয় তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট—প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে দলীয় প্রতীকের প্রভাব এখানে বেশি কার্যকর। স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে আলাপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক মেরুকরণ যত তীব্র হচ্ছে, ভোটার আচরণ ততই দলকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। ফলে ব্যক্তিগত ইমেজ বা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দলীয় পরিচয়।

বরিশাল-৫ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১ হাজার ৩০৩ জন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী ভোটার। এই বড় ভোটব্যাংক সত্ত্বেও নারী প্রার্থী মাত্র একজন—বাসদের ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তী। তিনি তরুণ ও প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা এই আসনে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিএনপি এই আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া। সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তাঁর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিএনপির জন্য একটি বড় শক্তি। অতীত নির্বাচনে দলটির ভোটের ব্যবধান এবং সাংগঠনিক কাঠামো বিএনপিকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সংগঠিত ভোটব্যাংককে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

জামায়াতে ইসলামী প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যে অভিযোগ তুলছে, তা নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে পুরোনো শঙ্কাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত না হলে ভোটার উপস্থিতি ও ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও।

নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের প্রস্তুতির কথা বলা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকার ওপর। ইতোমধ্যে চেকপোস্ট স্থাপন ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যা একদিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে ভোটারদের মনে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও সৃষ্টি করছে।

এই আসনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো—বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ভোটারদের সক্রিয়তা। দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত একটি বড় অংশ এবার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ধারণা রয়েছে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে, সেটিই ফল নির্ধারণে ‘গোপন ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনের নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক প্রবণতা, দলীয় শক্তির ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির ইঙ্গিত বহন করছে। শেষ পর্যন্ত এখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে দলীয় আনুগত্য, ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনী পরিবেশের গ্রহণযোগ্যতা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X