

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঋণ করে একটি ইজিবাইক কিনেছিলেন সাগর বেপারী। সেই ঋণের টাকাও এখনও শোধ করা হয়নি। ছোট ছোট দুই ছেলেকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাগর বেপারী স্ত্রী মাহফুজা বেগম (২২)।
জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জসিম বেপারীর ছেলে ইজিবাইক চালক সাগর বেপারী। তিনি একই উপজেলার ঘটকচর এলাকার গুচ্ছগ্রামে দুই ছেলে আব্দুল্লাহ (৭) ও ইউসুফ (৩) ও স্ত্রী মাহফুজাকে নিয়ে থাকতেন। জীবন জীবিকার জন্য প্রথমে ভ্যানগাড়ি চালাতেন। প্রায় তিন বছর ভ্যানগাড়ি চালিয়েছেন। বতর্মানে ভ্যানগাড়িতে যাত্রীরা বেশি উঠে না বিধায় একটি এনজিও থেকে কিস্তির মাধ্যমে টাকা লোন নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনেন। স্বপ্ন দেখেন ইজিবাইক চালিয়ে সংসারের সব খরচ জোগার করবেন। পাশাপাশি ছেলেদেরও স্কুলের লেখাপড়ার খরচ জোগার করবেন। একটু ভালো থাকবেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ইজিবাইক কেনার জন্য কিস্তির টাকাও পরিশোধ হয়নি। আর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ দিতে হলো সাগর বেপারীকে। আর দুমরে মুচরে গেছে ইজিবাইকটিও।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঘটকচর থেকে যাত্রী নিয়ে মস্তফাপুরের দিকে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর মিল গেটের সামনে এলে বিপরীত থেকে আসা যাত্রীবাহী সার্বিক পরিবহণের চাপায় ইজিবাইক চালক সাগর বেপারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনায় ৭ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।
নিহতের বাবা জসিম বেপারী বলেন, আমার ছেলে কিস্তির মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা দিয়ে ইজিবাইক কিনেছিলো। সেই টাকাও এখনও পরিশোধ হয়নি। আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এখন আমাদের কি হবে। এত অল্প বয়সে ছেলে এভাবে মারা যাবে, তা কখনও ভাবিনি।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা বেগম বলেন, আমার স্বামী অনেক ভালো মানুষ ছিলো। এলাকায় মানুষ তাকে খুব ভালোবাসতো। সংসারের সবাইকে ভালো রাখার জন্য কিস্তির মাধ্যমে একটি ইজিবাইক কিনেছিলো। কিস্তির সব টাকাও এখনও শোধ হয়নি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে আছে। ওরা এতিম হয়ে গেলো। এখন আমি কি করবো, কিভাবে সংসার চালাবো। কিভাবে কিস্তির টাকা দিবো। আর কিভাবেই এই ছোট দুই ছেলেকে মানুষ করবো। আল্লাহ কেন আমাদের সাথে এমন করলেন।
মন্তব্য করুন
