

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত জটিলতায় থাকা প্রার্থীদের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ক্ষেত্রে যারা নির্ধারিত ফি বা অর্থ পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন, তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছে কমিশন।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে এ নমনীয়তা দেখায় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে আলোচনায় থাকা একাধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব–সংক্রান্ত কারণে মোট ২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে দুজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একজন প্রার্থীর বিষয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে বাকি ২০ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন ও প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ওই ২০ জন প্রার্থীর আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকছে না।
এদিকে, শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুল গফুর ভুঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
একই ইস্যুতে কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জেল হোসেন কায়কোবাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার তুরস্কের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন আপাতত তার প্রার্থিতা বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য যাচাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সবকিছু সঠিকভাবে প্রতীয়মান হলে কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
তাছাড়াও, ঋণ খেলাপির অভিযোগে রবিবার চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়।
অন্যদিকে, দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতা নিয়েও যাদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই তারা হলেন- জামায়াত থেকে মনোনীতদের মধ্যে: ঢাকা-১ আসনে মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জুনায়েদ হাসান, যশোর-২ আসনে মোসলেম উদ্দীন ফরিদ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে একে ফজলুল হক এবং কুড়িগ্রাম-৩ আসনে মাহবুব আলম সালেহ।
বিএনপি থেকে মনোনীত বৈধ দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীরা হলেন, এ কে এম কামরুজ্জামান (দিনাজপুর-৫ আসন), মনিরুজ্জামান (সাতক্ষীরা-৪), শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২), তাহির রায়হান (সুনামগঞ্জ-২), শওকতুল ইসলাম (মৌলভীবাজার-২), মুসফিকুর রহমান (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), ফাহিম (শেরপুর-২), আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩) এবং আফরোজা খানম রিতা (মানিকগঞ্জ-৩)।
এর বাইরে, হবিগঞ্জ-১ আসনে সুজাত মিয়া, নোয়াখালী-১ আসনে জহিরুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে মো. মঞ্জুম আলী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে খোরশেদ আলম; নাটোর-১ আসনে খেলাফত মজলিশের আজাদুল হক এবং চট্টগ্রাম-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে আমজাদ হোসেনের প্রার্থিতা বৈধ হয়েছে।
রবিবার শুনানির শেষ দিনে দুই দফায় ৬৩ জনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২৩ জনের মঞ্জুর হয়। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে মঞ্জুর হয় ২১টি, মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে দুটি এবং ৩৫টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। যার মধ্যে মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে নামঞ্জুর হয়েছে ১৬টি।
শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আই ক্যান এশিউর আমার তরফ থেকে এবং আমার টিমের তরফ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো জাজমেন্ট আমরা দেইনি।
মন্তব্য করুন

