সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো দলের পক্ষ নেওয়া যাবে না, ভোট হবে নিরপেক্ষ: সেনাপ্রধান

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
expand
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব কর্মকর্তা ও সৈনিককে সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। এতে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাত বা রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনের সুযোগ নেই।

গতকাল ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণে আয়োজিত পৃথক দু’টি সভায় সৈনিকদের সাথে দরবার এবং কর্মকর্তাদের সাথে অফিসার্স অ্যাড্রেসে, সেনাপ্রধান এসব নির্দেশনা দেন। সভায় ঢাকার বাইরে অবস্থানরত সেনাকর্মকর্তারা অনলাইনে ছিলেন।

নির্বাচন ঘিরে ‘নিরাপত্তা বলয়’ গড়ার নির্দেশ

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সেনাপ্রধান বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এমন একটি সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করতে হবে, যাতে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারেন। ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো ধরনের ভয়, চাপ বা প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সেনাসদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক পক্ষের নয়। আমরা রাষ্ট্রের, সংবিধানের ও জনগণের পক্ষে।

নির্বাচনের পর ব্যারাকে ফিরতে হবে

সেনাপ্রধান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। নির্বাচন শেষে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরতে হবে, এর বাইরে অন্য কোনো ভূমিকার প্রশ্নই ওঠে না। তার এ বক্তব্যকে নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর অবস্থান স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুজব, অপপ্রচার ও উসকানির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

বৈঠকে সেনাপ্রধান দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলেন, সেনাসদস্যদের ধৈর্য ও সংযমই এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রধান হাতিয়ার।

“কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা ঘটনায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এমন কিছু করা যাবে না, যাতে উসকানিদাতাদের উদ্দেশ্য সফল হয়।”

মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধে স্পষ্ট নির্দেশ

সম্প্রতি সেনা হেফাজতে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় পরোক্ষ ইঙ্গিত দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, সেনা হেফাজতে যেন কোনোভাবেই মৃত্যুর ঘটনা বা মানবাধিকার লঙ্ঘন না ঘটে, সে বিষয়ে শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপরাধীকে গ্রেফতারের পর দ্রুত পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। সেনাবাহিনী কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি হেফাজতে রাখবে না।

মেজর সিনহা ও বিডিআর হত্যা

বৈঠকে এক সৈনিকের প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান মেজর সিনহা হত্যা মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বর্তমানে এটি আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে এবং উচ্চ আদালতের রায় ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। অন্য দিকে এক সেনাকর্মকর্তা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার এ বিষয়ে শতভাগ বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এবং প্রতিষ্ঠিত সত্য যাতে পরিবর্তিত না হয়, সে বিষয়ে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা থাকবে।

নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে ব্যবস্থা

সেনাপ্রধান আরো বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এর লক্ষ্য, নর্বাচনী সহিংসতা, ভয়ভীতি ও নাশকতা আগে ভাগেই দমন করতে হবে।

বিশ্লেষণ : কেন এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ

বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের এই অফিসার্স অ্যাড্রেস বর্তমান রাজনৈতিক রূপান্তরকালে সেনাবাহিনীর ভূমিকা, সীমা ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে নিরপেক্ষ নির্বাচন, মানবাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা- সব মিলিয়ে এটি দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনী যে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই স্থায়ী বা প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে থাকতে চায় না বরং একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করে ফিরে যেতে চায় সে অবস্থান আরো পরিষ্কার হলো। সূত্র : নয়া দিগন্ত

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X