রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওপারে তিনদিন ধরে গোলাগুলি-বিস্ফোরণ, এপারে আতঙ্ক

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
টানা তিনদিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ
expand
টানা তিনদিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে টানা তিনদিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি ও শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে।

এতে সীমান্তবর্তী এলাকার বসতবাড়ি কেঁপে উঠছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার গভীররাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত এই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ অব্যাহত রয়েছে।

বিশেষ করে রাতের বেলায় শব্দের তীব্রতা বেশি হওয়ায় সীমান্ত এলাকার মানুষ ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানান, দেশটির জান্তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাখাইন রাজ্যের একাধিক শহর, গ্রাম ও সীমান্ত চৌকি হাতছাড়া হয়ে গেছে।

এসব এলাকার বড় একটি অংশ বর্তমানে সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ফলে ওইসব এলাকায় জান্তা বাহিনীর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

এদিকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছেন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। এর ফলে রাখাইন সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে।

এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক জেলে পরিবার নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে যেতে পারছে না।

সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।নাফ নদী ও চিংড়ি ঘেরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হাসান বলেন, ‘আমরা এখনো মাছ ধরতে যেতে ভয় পাচ্ছি। রাখাইন সীমান্তে যেকোনো সময় গোলাগুলি হচ্ছে। সেখান থেকে ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টানা গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের কারণে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।’স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইলিয়াস মিয়া জানান,বৃহস্পতিবার রাতের পর শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বোমা বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দে হোয়াইক্যং সীমান্তের বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত আবারো ব্যাপক বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। এখনো মাঝে মধ্যে দু-একটি ফায়ারের শব্দ ভেসে আসছে।’

হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, গত তিনদিন ধরে রাখাইন সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতে শব্দগুলো আরও তীব্র হওয়ায় মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X