শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোয়াখালীতে ৫ কোটি টাকার পাইপ ও সামগ্রী  ১৯ লাখে বিক্রির অভিযোগ: তদন্ত শুরু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর
expand
নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) সরকারি মালামাল বিক্রিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুসারে, বাজারমূল্যে প্রায় ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার জিআই ও পিভিসি পাইপসহ নির্মাণসামগ্রী গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি সাধনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আজগরের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি সরেজমিনে এসে কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করেছে। তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আজগর জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত আরও সহজ হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে কেনা সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন মাপের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী দীর্ঘদিন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে মজুদ ছিল। এসব মালামাল ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপনে নিলামে তোলা হয়। প্রকাশ্য নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র এবং মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দিতে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

ঠিকাদারদের দাবি, দেড় ইঞ্চি ব্যাসের ৪৮ হাজার ফুট এবং তিন ইঞ্চি ব্যাসের ২৮ হাজার ফুটসহ মোট প্রায় ১৫ লাখ ২০ হাজার ফুট পাইপ বিক্রি করা হয়েছে। এর বাজারমূল্য অন্তত ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু গোপনীয়তার মাধ্যমে এসব মালামাল আওয়ামী লীগ নেতাসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় হস্তান্তর করা হয় সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লাহ এলাকায়।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে ঠিকাদাররা প্রতিবাদে নামেন। একদিন নির্বাহী প্রকৌশলীকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয় এবং পরদিন তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন।

এ ঘটনায় রাষ্ট্রের বিপুল অর্থের ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X